হোম » অনুপ্রেরণীয় » ভবিষ্যৎ সুরক্ষার জন্য নিজের উপর বিনিয়োগ করুন

ভবিষ্যৎ সুরক্ষার জন্য নিজের উপর বিনিয়োগ করুন

আমরা প্রায়শই জব সিকিউরিটি নিয়ে উদ্বিগ্ন থাকি, কিন্তু নিজের উন্নয়নে ততটা মনোযোগ দিই না। বর্তমানের সমস্যায় এতটাই মগ্ন হয়ে পড়ি যে ভবিষ্যতের সম্ভাবনাগুলি আমরা উপেক্ষা করি। এর ফলাফল? এক অবিরাম হতাশা। বর্তমান বা ভবিষ্যতের জন্য কিছুই করার মতো মনে হয় না।

নিজের উপর বিনিয়োগ: ইলন মাস্ক ও স্টিভ জবসের উদাহরণ

ধরুন, আজ যদি ইলন মাস্ককে তার সব কোম্পানি থেকে বহিষ্কার করা হয় এবং তার ব্যাংক ব্যালেন্স শূন্য হয়ে যায়। ইলন মাস্কের কী হবে? তার বিশেষ কিছুই হবে না। কারণ তিনি নতুন একটি কোম্পানি গড়ে তুলতে সক্ষম। অথবা তিনি কোনো বড় কোম্পানিতে কনসালটেন্ট হিসেবে কাজ পাবেন। কেন? কারণ তিনি নিজের দক্ষতায় দক্ষ। ইলন মাস্কের সম্পদ তার ব্যাংকে নয়, তার মস্তিষ্কে।

স্টিভ জবসও তো তার নিজ কোম্পানি থেকে বেরিয়ে গিয়েছিলেন। এরপর তিনি নতুন কোম্পানি শুরু করেন। তার হাতে অনেক টাকা ছিল ঠিকই, কিন্তু তার প্রধান সম্পদ ছিল তার দক্ষতা। টাকা কার হাতে থাকে, তা গুরুত্বপূর্ণ। বড়লোকের সন্তানের হাতেও প্রচুর টাকা থাকতে পারে, কিন্তু দক্ষতার অভাবে সেই টাকা নষ্ট হতে পারে।

নিজের উপর বিনিয়োগের গুরুত্ব

জব সিকিউরিটি নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার আগে নিজেকে নিয়ে ভাবা জরুরি। আপনি যত ভালো কর্মীই হন না কেন, কোম্পানি ব্যর্থ হলে আপনার জব সিকিউরিটি থাকবে না। তাই নিজের উপর বিনিয়োগ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নিজের উপর বিনিয়োগ করা মানে কি? এটি খুব সহজ। শুধু বুঝতে শেখা আপনার কি দরকার, কি দরকার না এবং সত্যিকারের আপনি কি চান।

নতুন কিছু শিখতে পারেন, তা হতে পারে আপনার কাজ সম্পর্কিত বা একেবারেই ভিন্ন কিছু। আজ যা সম্পর্কহীন মনে হতে পারে, একদিন সব কিছু সুন্দরভাবে সংযুক্ত হয়ে দারুণ কিছু সৃষ্টি করবে।

মস্তিষ্কের উন্নয়নে বিনিয়োগ

নতুন কিছু শেখার পাশাপাশি, বই পড়া মস্তিষ্কের জন্য অত্যন্ত উপকারী। যানজটে বসে থাকা, ঘুমানোর আগে বা উইকএন্ডের অলস সময়ে বই পড়ুন। এটি আপনার চিন্তা করার ক্ষমতা বাড়াবে এবং নতুন স্কিল যুক্ত হবে আপনার পোর্টফোলিওতে।

ভ্রমণ ও ব্যক্তিগত ব্র্যান্ডিং

দেশের ভিতরে বা দেশের বাইরে ভ্রমণ করুন। এটি আপনাকে ভিন্নভাবে চিন্তা করতে সহায়তা করবে। এখন সময়টি ব্যক্তিগত ব্র্যান্ডের। ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, ইউটিউব বা টিকটক ব্যবহার করে নিজের স্কিল শেয়ার করুন। এটি জব পেতে সহায়ক হবে এবং মানুষের সাথে পরিচিতি বাড়াবে।

শারীরিক স্বাস্থ্য ও মানসিক শক্তি

শারীরিক স্বাস্থ্য ঠিক রাখাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সঠিক খাওয়া-দাওয়া এবং নিয়মিত ব্যায়াম করুন। আপনার শরীর যদি সুস্থ না থাকে, তাহলে কোনো কিছুতেই মানে থাকবে না।

প্রতিকূলতার মধ্যেও অগ্রগতি

ছোট অর্জনগুলিতে সন্তুষ্ট না হয়ে নিজেকে পুশ করতে থাকুন। একটি প্রবাদ আছে, “শরীরের নাম মহাশয়, যা সহায় তা সহে।” অন্য কেউ করতে পারলে আপনি কেন পারবেন না? উদাহরণ তৈরি করা কঠিন, কিন্তু প্রতিকূলতা জয় করে উদাহরণ তৈরি করতে পারলে যে আত্মতৃপ্তি আসবে, তা অন্য কিছুতেই পাওয়া যাবে না।

শেষকথা

নিজের উপর বিনিয়োগ করুন, একটু একটু করে। প্রতিদিন নতুন কিছু শিখুন, বই পড়ুন, ভ্রমণ করুন, নিজের ব্র্যান্ড তৈরি করুন এবং শারীরিক স্বাস্থ্য ঠিক রাখুন। এভাবেই আপনি নিজেকে ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত করতে পারবেন এবং জীবনে সফল হতে পারবেন।

Leave a Comment