হোম » অনুপ্রেরণীয় » সময় ব্যবস্থাপনা: ইলন মাস্কের মত প্রোডাক্টিভতা অর্জন

সময় ব্যবস্থাপনা: ইলন মাস্কের মত প্রোডাক্টিভতা অর্জন

ইলন মাস্ক, টেসলা এবং স্পেসএক্সের সিইও, প্রতিদিন ২৪ ঘণ্টা পায়। আমরাও প্রতিদিন ২৪ ঘণ্টা পাই। কিন্তু ইলন মাস্ক সময়কে যে ভাবে কাজে লাগাতে পারে, আমরা সেভাবে কাজে লাগাতে পারি না। আমাদেরও ইলন মাস্কের মতো প্রোডাক্টিভতা অর্জনের এবং সফলতার ইচ্ছা থাকে, প্রতি সপ্তাহে ৮০ ঘণ্টা কাজ করার আগ্রহ থাকে, কিন্তু আমরা কি তা করতে পারি?

প্রাথমিক বাধা: সামাজিক মাধ্যমের আসক্তি

আমরা প্রথমে ফেসবুকে যাই। কারো স্ট্যাটাসে একটি কমেন্ট করি বা নিজে কোন স্ট্যাটাস দেই। তারপর অপেক্ষা করি রিপ্লাই বা নোটিফিকেশনের। এভাবে একের পর এক নোটিফিকেশন আসতে থাকে এবং আমাদের ২৪ ঘণ্টা সময় থেকে একটু একটু করে চলে যেতে থাকে।

ইউটিউবে একটি গান শুনতে গিয়ে দেখি অন্য গানও রয়েছে যা শুনতেও ইচ্ছে হয়। আবার প্রিয় কারো স্মৃতি জড়িয়ে থাকে বলে তাদের ফেসবুক প্রোফাইল চেক করি, হয়তো একটা কল দেই বা মেসেজ করি। এভাবে দিনের অর্ধেক সময় শেষ হয়ে যায়। ফেসবুক, ইউটিউব, টিকটক, টুইটার ইত্যাদি আমাদের সাইকোলজিকে নিয়ে খেলে এবং আমাদের যতক্ষণ তাদের সাইটে ধরে রাখতে পারে, ততই তাদের লাভ।

সময়ের মূল্য এবং এর ব্যবহারের কৌশল

প্রতিটি বছরের শুরুতে আমরা অনেক পরিকল্পনা করি। যেমন, ২০১৫ তে আমরা ২০১৬ এর জন্য অনেক প্ল্যান করেছিলাম। কিন্তু ডিসেম্বর আসতে না আসতেই দেখতে পাই, সময় গুলো দ্রুত শেষ হয়ে গিয়েছে এবং আমাদের অনেক কাজ অসম্পূর্ণ রয়ে গেছে।

এক ঘণ্টা সময় মনে হয় অনেক, কিন্তু যখন তা ছোট ছোট ভাগে ভাগ হয়ে যায়, তখন আর এক ঘণ্টা থাকে না। পাঁচ মিনিট হয়তো ফেসবুকে, পাঁচ মিনিট হোয়াটসঅ্যাপে এবং কিছু সময় ইনস্টাগ্রামে কাটিয়ে দেই। এরপর মনোযোগ দেয়ার চেষ্টা করলেও, একটি কল বা নোটিফিকেশন এসে মনোযোগ ভেঙে দেয়। এভাবে এক ঘণ্টার মূল্য কমে যায় এবং অন্য সময় থেকেও ধার করতে হয়।

ইলন মাস্কের সময় ব্যবস্থাপনা

ইলন মাস্কের সময় ব্যবস্থাপনা একটি মডেল হতে পারে। তিনি প্রতি সপ্তাহে প্রায় ৮০-১০০ ঘণ্টা কাজ করেন। তার সময়ের পরিকল্পনা খুব সুসংগঠিত এবং তার প্রতিটি মিনিটের মূল্য তিনি জানেন।

ইলন মাস্কের মত সফল মানুষদের প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো সময়ের সঠিক ব্যবহার। তারা জানেন কিভাবে সময়কে কাজে লাগাতে হয়। এ কারণে তারা সফল এবং উৎপাদনশীল।

কীভাবে সময়কে ভালোভাবে ব্যবহার করবেন

১. প্রাধান্য দিন: আপনার কাজগুলিকে অগ্রাধিকার দিন। কোন কাজটি আপনার জন্য বেশি গুরুত্বপূর্ণ তা নির্ধারণ করুন এবং সেগুলোকে আগে শেষ করুন।

  1. নোটিফিকেশন বন্ধ রাখুন: সামাজিক মাধ্যমের নোটিফিকেশন বন্ধ রাখুন। নির্দিষ্ট সময় পরপর চেক করুন, সবসময় নয়।
  2. সময়ের সীমা নির্ধারণ করুন: প্রতিটি কাজের জন্য একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করুন এবং সেই সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করার চেষ্টা করুন।
  3. প্রতি ঘণ্টায় একটি বিরতি নিন: প্রতি ঘণ্টায় ৫-১০ মিনিটের বিরতি নিন। এটি আপনাকে ফ্রেশ রাখতে সাহায্য করবে এবং কাজের প্রতি মনোযোগ বাড়াবে।
  4. ছোট ছোট লক্ষ্য নির্ধারণ করুন: ছোট ছোট লক্ষ্য নির্ধারণ করুন এবং তা অর্জনের চেষ্টা করুন। এভাবে আপনার কাজগুলো আরও সহজ এবং পরিচালনাযোগ্য হবে।

প্রযুক্তির ব্যবহার

প্রযুক্তি আপনার সময় ব্যবস্থাপনার জন্য সহায়ক হতে পারে। এমন কিছু অ্যাপ ব্যবহার করুন যা আপনাকে সময় ব্যবস্থাপনায় সাহায্য করবে। যেমন, Trello বা Asana ব্যবহার করতে পারেন কাজের তালিকা তৈরি করতে এবং কাজগুলোর অগ্রগতি ট্র্যাক করতে।

মনোযোগ বৃদ্ধি করার উপায়

মনোযোগ বৃদ্ধি করার জন্য কিছু বিশেষ টেকনিক ব্যবহার করা যেতে পারে। যেমন, Pomodoro Technique ব্যবহার করতে পারেন যেখানে ২৫ মিনিট কাজ করবেন এবং ৫ মিনিট বিরতি নেবেন।

নিয়মিত বিশ্রাম

সময়ের সঠিক ব্যবস্থাপনার পাশাপাশি নিয়মিত বিশ্রামও জরুরি। পর্যাপ্ত ঘুম এবং বিশ্রাম আপনার মস্তিষ্ককে ফ্রেশ রাখবে এবং কাজের প্রতি মনোযোগ বাড়াবে।

শেষ পরামর্শ

এই পৃথিবীর সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ হলো সময়। যে তার সময়কে যত ভালোভাবে কাজে লাগাতে পারে, তার সময়ের মূল্য তত বেশি। ইলন মাস্কের মত উৎপাদনশীল হতে হলে আমাদেরও সময়ের সঠিক ব্যবস্থাপনা করতে হবে।

আজকের সময়টি আমরা আর কখনোই ফিরে পাব না। তাই আজকের সময়টিকে ছোট ছোট ভাগে নষ্ট না করে কাজে লাগানোর চেষ্টা করুন। নিজের পছন্দের কোন বিষয়ের উপর পড়ালেখা করুন, প্রজেক্ট তৈরি করুন এবং অন্যের সাহায্য নিয়ে ভালো দিক খুঁজে বের করুন। নতুন কিছু চিন্তা করুন এবং শুরু করা প্রজেক্টটিকে দারুণ কিছু করে তুলুন।

সময়ের বড় অংশ কাজে লাগানোর চেষ্টা করুন এবং নিজের সময়টাকে মূল্যবান করে তুলুন। শুভ কামনা।

Leave a Comment