হোম » অনুপ্রেরণীয় » অনুকরণ না করে কেন নিজের মত হওয়া জরুরি

অনুকরণ না করে কেন নিজের মত হওয়া জরুরি

ছোটবেলায় আমরা অনেক গল্প পড়েছি, যেমন কচ্ছপ এবং খরগোসের গল্প। সেই সময় কচ্ছপের মত হতে ইচ্ছে করত, কারণ সে ধীরে হলেও শেষ পর্যন্ত জেতে। কিন্তু বড় হতে হতে বুঝলাম, আমি মানুষ। আমি কচ্ছপের মত ধীরে চলতে পারব না, খরগোসের মত দ্রুতও নয়। আমাকে হতে হবে আমার মত, আমার নিজস্ব পথেই এগিয়ে যেতে হবে।

বীরশ্রেষ্ঠদের গল্প এবং নিজের উন্নতি

বইয়ে বীরশ্রেষ্ঠদের গল্প পড়ে ইচ্ছে করত দেশের জন্য যুদ্ধ করতে, প্রাণ দিতে। কিন্তু বুঝলাম, দেশের উন্নতির জন্য সব সময় যুদ্ধ লাগে না। নিজের জন্য কিছু করাই দেশের জন্য কিছু করা। যখন আমরা নিজেদের উন্নতি করি, তখন দেশের সামগ্রিক উন্নতিতেও ভূমিকা রাখি। প্রতিটি ব্যক্তি যখন নিজ নিজ ক্ষেত্রে সফল হয়, তখন পুরো দেশ এগিয়ে যায়।

ফ্লোরেন্স নাইটিঙ্গেল এবং সেবার অর্থ

ফ্লোরেন্স নাইটিঙ্গেলের গল্প পড়ে সেবার জন্য অনুপ্রাণিত হতাম। কিন্তু সময়ের সাথে বুঝলাম, সেবা করতে হলে ফ্লোরেন্স নাইটিঙ্গেলের মত হতে হয় না। নিজের মত হয়েও চারপাশের মানুষের প্রয়োজন মেটানো যায়। সমাজের কল্যাণে এগিয়ে আসাই সবচেয়ে বড় সেবা।

সফল ব্যক্তিত্বদের থেকে শেখা

নীল আর্মস্ট্রং, থমাস আলভা এডিসন, এলান টিউরিং, আইনস্টাইন, লিনাস টরভাল্ডস, বিল গেটস, স্টিভ জবস, ওয়ারেন বাফেটসহ অনেক সফল ব্যক্তিত্বের গল্প পড়ে তাদের মত হতে ইচ্ছে করত। কিন্তু এখন বুঝি, আমরা চাইলেই তাদের মত হতে পারব না। আমরা পারব নিজেদের মত হতে, নিজেদের সেরা সংস্করণে পরিণত হতে।

Forrest Gump এর সহজ উত্তর

Forrest Gump” মুভিতে একটি প্রশ্ন করা হয়েছিল, “Do you ever dream, Forrest, about who you’re gonna be?” উত্তরে Forrest Gump বলে, “Aren’t I going to be me?” এই সহজ প্রশ্নের সহজ উত্তরটি অনেক বড় সত্যি প্রকাশ করে। আমরা যদি নিজেদের মত না হই, অন্য কারো মত হওয়ার চেষ্টা করি, তাহলে আমরা আমাদের প্রকৃত সত্তাকে হারিয়ে ফেলি।

নিজের মত হওয়ার গুরুত্ব

আমরা যদি আমাদের নিজস্বতা ধরে রাখতে না পারি, আমরা যদি আমাদের মত না হই, অন্যের মত হওয়ার চেষ্টা করি, এবং অন্যের সাথে প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হই, তাহলে আমাদের সৃজনশীলতা এবং সক্ষমতা হারিয়ে ফেলি। আমরা আমাদের প্রকৃত সম্ভাবনাকে বিকশিত করতে পারি না। প্রতিটি মানুষ অনন্য এবং তার নিজস্ব প্রতিভা এবং দক্ষতা রয়েছে। অন্যের সাথে প্রতিযোগিতা করে আমরা আমাদের প্রকৃত লক্ষ্য থেকে সরে যাই। আমাদের প্রতিযোগিতা করতে হবে নিজেদের সাথে, নিজেদের উন্নতির জন্য।

হাদিসের দৃষ্টিতে জীবনযাপন

একটি হাদিসে বলা হয়েছে, “ধ্বংস তার জন্য, যার আজকের দিনটি গতকালের থেকে উত্তম হয়নি।” এটি আমাদের প্রতিদিন উন্নতির জন্য প্রেরণা দেয়। নিজের সাথে প্রতিযোগিতা করে, প্রতিদিন একটু একটু করে উন্নতি করা আমাদের জীবনের লক্ষ্য হওয়া উচিত।

নিজের সেরা সংস্করণ হওয়া

নিজের সেরা সংস্করণ হওয়া মানে নিজেকে প্রতিদিন আরও উন্নত করা। এতে করে আমাদের মনের শান্তি বজায় থাকে এবং আমরা নিজের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে পারি। নিজের লক্ষ্য এবং মূল্যবোধ অনুযায়ী কাজ করলে আমরা সমাজের জন্যও উপকারী হতে পারি।

কিভাবে নিজের বেস্ট ভার্সন হওয়া যায়

নিজের সেরা সংস্করণ হওয়ার জন্য কিছু সহজ ধাপ অনুসরণ করতে পারেন:

১. নিজেকে জানুন: আপনার প্রিয় বিষয়গুলো, আগ্রহ এবং প্রতিভা সম্পর্কে জানুন।

২. লক্ষ্য স্থাপন করুন: আপনার জীবনের জন্য সুস্পষ্ট লক্ষ্য নির্ধারণ করুন।

৩. সৃজনশীল হন: নতুন কিছু শিখুন এবং নিজের সৃজনশীলতা বৃদ্ধি করুন।

৪. নিজের সীমাবদ্ধতাকে চ্যালেঞ্জ করুন: ভয় এবং অসুবিধা দূর করে নতুন কিছু করার চেষ্টা করুন।

৫. অবিরাম শিখুন: জীবনের প্রতিটি মুহূর্ত থেকে শিখতে প্রস্তুত থাকুন।

সফল ব্যক্তিদের উদাহরণ

স্টিভ জবস তার সৃজনশীলতা এবং প্রযুক্তি দক্ষতার মাধ্যমে অ্যাপলের মতো কোম্পানি প্রতিষ্ঠা করেছেন। এলন মাস্ক তার উদ্ভাবনী চিন্তা এবং সাহসিকতার মাধ্যমে স্পেসএক্স এবং টেসলার মত কোম্পানি গড়ে তুলেছেন। তারা অন্যদের মত হতে চেষ্টাও করেনি, বরং নিজেদের বেস্ট ভার্সন হতে প্রচেষ্টা চালিয়েছে।

সঠিক পন্থা নির্বাচন

জীবনে সঠিক পথ নির্বাচন করতে হবে এবং নিজের লক্ষ্য স্থাপন করতে হবে। প্রতিটি মানুষের জীবনে কিছু লক্ষ্য থাকা উচিত যা তাকে প্রতিদিন উন্নতির পথে পরিচালিত করবে।

নিজেকে উৎসাহিত রাখুন

নিয়মিত নিজের উন্নতির দিকে নজর দিন এবং নিজের প্রতি সদয় থাকুন। নিজের প্রতি বিশ্বাস রাখুন এবং নিজেদের সেরা সংস্করণ হতে প্রয়াস চালিয়ে যান।

নিজের সেরা সংস্করণে পরিণত হওয়ার উপকারিতা

নিজের সেরা সংস্করণ হওয়া মানে আপনি নিজেই নিজের সাথে প্রতিযোগিতা করছেন, অন্যের সাথে নয়। এতে করে আপনি মানসিকভাবে শক্তিশালী হন এবং জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রেই সফল হতে পারেন। সমাজের জন্য আপনি একজন অনুকরণীয় ব্যক্তি হয়ে উঠবেন এবং অন্যদের অনুপ্রেরণা দিতে পারবেন।

সমাপ্তি

নিজের সেরা সংস্করণ হওয়া আমাদের জীবনকে সফল এবং অর্থবহ করে তোলে। আমাদের উচিত নিজেদের প্রকৃত প্রতিভা এবং সক্ষমতা অনুসারে জীবনযাপন করা। প্রতিটি দিন নিজেকে উন্নত করার চেষ্টা করতে হবে এবং অন্যের মতো হওয়া নয়, বরং নিজেই নিজের বেস্ট ভার্সন হতে হবে।

Leave a Comment