Header Ads

কতটুকু জ্ঞান অর্জন করা ফরয?

জান্নাতে যাওয়ার অন্যতম একটি মাধ্যম হলো দ্বীনি জ্ঞান অর্জন করা। এই জ্ঞান অর্জন করা সবার উপর ফরয।

রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া-সাল্লাম বলেন, “(দ্বীনি) জ্ঞান অন্বেষণ করা প্রত্যেক মুসলমানের উপর ফরয।” (ইবনে মাজাহ: ২২৪; হাদিসটি সহিহ)

কতটুকু জ্ঞান অর্জন করা ফরয?

ইমাম ফুযাইল ইবনু ইয়ায (রাহ.) বলেন, “প্রত্যেক ঐ কাজ, যা তোমার উপর ফরয, সে সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করা তোমার উপর ফরয।” (আল খাত্ত্বাবি: মা'আলিমুস সুনান ৪/১৮৬)

শাইখ মুহাম্মাদ বিন সালেহ আল মুনাজ্জিদ (হাফিযাহুল্লাহ) বলেন, “হালাল-হারাম সম্পর্কে অবগত হওয়া দ্বীনের অত্যধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়াবলীর অন্যতম। কেননা এ সম্পর্কে জানা ফরযে আইন (অর্থাৎ, প্রত্যেকের উপর ফরয)।” (ফাতাওয়া নং ১০০২১৪)

দ্বীনি জ্ঞানার্জনের ফযিলত কী?

রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া-সাল্লাম বলেন, “যে ব্যক্তি ’ইল্ম (দ্বীনি জ্ঞান) অন্বেষণে কোন রাস্তা দিয়ে চলে, আল্লাহ্ তা'আলা তার জন্য জান্নাতের রাস্তা সহজ করে দেন। ফেরেশতাগণ জ্ঞান অন্বেষণকারীর এই কাজে সন্তুষ্টি প্রকাশ করে তাদের (নূরের) পাখাগুলো তার জন্য বিছিয়ে দেন। আলেমের জন্য আসমান এবং যমিনের সকলেই ক্ষমা প্রার্থনা করে। এমনকি পানির মধ্যে মাছও তাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করে। তারকারাজির উপর চাঁদের যেমন মর্যাদা, ইবাদতে লিপ্ত আবেদের উপর আলেমের মর্যাদা তেমনি। আলেমরা হচ্ছেন নবীদের উত্তরাধিকারী। নবীরা কোন দিনার-দিরহাম (টাকা-পয়সা) মীরাস রেখে যাননি, তারা শুধু ইলমের উত্তরাধিকার রেখে যান। কাজেই যে ব্যক্তি ইলম গ্রহণ করলো, সে নবীদের উত্তরাধিকার থেকে একটি বড় অংশ গ্রহণ করলো।” (বুখারি: ১/৩৭; মুসলিম: ২০৭৪; তিরমিযি: ৫/২৮, ৪৮; ইবনু মাজাহ: ১/৮১-৮২ সহিহ ও হাসান)

রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া-সাল্লাম বলেন, “তুমি যদি যেয়ে কুরআনের একটি আয়াত শিক্ষা করো, তবে তা তোমার জন্য ১০০ রাকা'আত নফল সলাত হতেও উত্তম। আর যদি তুমি ইলমের (দ্বীনি জ্ঞানের) একটি অধ্যায় শিক্ষা করো - আমলকৃত বা আমলকৃত নয় - তবে তা তোমার জন্য ১০০০ রাকা'আত সলাত আদায় করা থেকেও উত্তম।” (ইবনে মাজাহ: ১/৭৯, আত-তারগিব: ১/৫৪, ২/২৩২ হাসান)

রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া-সাল্লাম আরো বলেন, “যখন কোন আদম সন্তান মৃত্যুবরণ করে তখন তার সকল কাজ বন্ধ হয়ে যায়। শুধু তিনটি কাজের নেকি সে অব্যাহতরূপে পেতে থাকে:
(১) প্রবহমান দান (সদাক্বায়ে জারিয়াহ্),
(২) উপকারী জ্ঞান এবং
(৩) নেককার সন্তান—যে তার জন্য দু'আ করে থাকে।” (সহীহ মুসলিম: ৩/১২৫৫)