Header Ads

দীর্ঘদিন অতিবাহিত হওয়ার পর ও যদি আল্লাহর কালামের সাথে আপনার কোন সম্পর্ক না থাকে


আল্লাহর কালাম কোরআন মাজীদ

দীর্ঘদিন অতিবাহিত হওয়ার পর ও যদি আল্লাহর কালামের সাথে আপনার কোন সম্পর্ক না থাকে তাহলে নিজের উপর কান্না করুন।
অনেকদিন যাবত যদি আল্লাহর কুর'আন থেকে কয়েকটা আয়াত তিলাওয়াত করা ও আপনার পক্ষে সম্ভব না হয় তাহলে নিজের জীবন নিয়ে,জীবনের উদ্দেশ্য নিয়ে আরেকবার আপনার ভাবার সময় এসেছে!

ওয়াল্লাহি! একমাত্র আল্লাহর সাথে সম্পর্কের মধ্যে দূরত্ব সৃষ্টি হওয়া ছাড়া কারো ক্ষমতা নেই আপনাকে ভালো কাজ করা থেকে বিরত রাখার।

সুফিয়ান আস সাওরির( রহ) এর মত স্কলার বলেন-

''আমি একটি পাপ করার কারণে টানা ছয়মাস কিয়ামুল লাইলে(তাহাজ্জুদে) দাঁড়াতে পারি নি।''

সুবহানআল্লাহ্!

এ জন্য আলেমগন বলে থাকেন, আল্লাহ যখন কারো উপর অসন্তোষ, নাখোশ হন তখন তার খাওয়া-দাওয়া, নিশ্বাস নেওয়া কিংবা চলাফেরা বন্ধ করে দেন না বরং আল্লাহ সিজদাহ করার অধিকার ছিনিয়ে নেন। কোরআন তিলাওয়াত, যিকির সহ অন্যান্য নেক আমল করার ইচ্ছাশক্তি কেড়ে নেন।আল্লাহ তাকে এমন সব কাজের মধ্যে ঘোরপ্যাঁচ খাওয়ান যেগুলোর মধ্যে আল্লাহর অসন্তুষ্টি রয়েছে।

ইবনুল কাইয়্যিম রাহিমাহুল্লার খুব সুন্দর একইসাথে বেশ মারাত্নক একটা উক্তি রয়েছেঃ

“Whoever wants to know his stations in the eyes of Allah, then let him know where Allah has stationed him.”
-
তিনি খুব সুন্দরভাবে বলছেন, ''একটিবার তাকিয়ে দেখুন আল্লাহ আপনাকে কোন অবস্থায় রেখেছেন? কিসে ব্যস্ত রেখেছেন! তাহলে বুঝতে পারবেন আল্লাহর নিকট আপনার মর্যাদা কেমন।''

একটা সুন্দর ছবি ফেসবুকে আপ্লোড করে প্রশংসার জন্য অপেক্ষা করা,ফেবুকে পোস্ট লিখে লাইক কমেন্ট অন্তরে ঝড় তোলা,প্রিয়তমার হৃদয় জয় করার জন্য ব্যস্ত থাকা, যে দল আল্লাহর জন্য কাজ করে না তাতে দিন-রাত সময় দেয়া, এমন কিছু কাজে ব্যস্ত থাকা যার জন্য আল্লাহ আপনাকে পৃথিবীতে পাঠাননি- আপনি যদি নিজেকে এসব কাজে ব্যস্ত দেখেন, তাহলে এটা একটা সাইন যে আপনি আল্লাহ থেকে অনেক দূরে আছেন। আবার যদি সারা বিশ্বের মুসলিমদের অবস্থা আপনাকে চিন্তিত করে, আপনার যদি দিন কাটে মানুষকে সত্যের পথে আহবান করে, আল্লাহর যিকর করে, দান সদকা করে- তাহলে এটা একটা সাইন যে আল্লাহর কাছে আপনার মর্যাদা অনেক উপরে। আপনি সঠিক পথে আছেন বিইযনিল্লাহ।

আপনার যদি আল্লাহর যিকরে অন্তরে প্রশান্ত না হয়, কুরআনে হৃদয় বিগলিত না হয়,সিজদায় যদি আপনি প্রশান্তি না পান- তাহলে নিজের উপর কান্না করুন। আল্লাহর কাছে বার বার ক্ষমা চান। আল্লাহকে বলুন পূর্ব-পশ্চিমের দূরত্ব যেমন আপনার এবং গুনাহের মধ্যে ও যেন তেমন দূরত্ব সৃষ্টি করে দেন।

গুনাহের কারনে আপনার এবং আপনার রবের মধ্যকার যে দূরত্ব সৃষ্টি হয়েছে তাওবাহ, ইস্তিগফার, আল্লাহর যিকরের, নফল ইবাদাতের মাধ্যমে সেই দূরত্ব কমিয়ে আনতে চেষ্টা করুন।

মনে রাখবেন আপনাকে পৃথিবীতে দৌড়াতেই হবে। হোক সেটা দুনিয়ার জন্য কিংবা আল্লাহর জন্য। আপনি আল্লাহর ইবাদত করুন কিংবা শায়তানের। পৃথিবী আপনাকে ক্লান্ত করে ছাড়বেই। সিদ্ধান্ত আপনার আপনি কিসে ক্লান্ত হবেন?

ইবনুল কাইয়্যিম রাহিমাহুল্লাহ বলেন-

''And the best cure for this probelm is to flee from Allah to Allah. And whoever wishes to gain closeness to Allah and the Quarn that he should flee from trails. And to distance himself from any evil that would distance him from the Book of Allah."

সম্পর্কিত অনুসন্ধান:
কুরআন শিক্ষার গুরুত্ব
কোরআন তেলাওয়াতের সময়
কুরআন তিলাওয়াতের ফজিলত
মানব জীবনে কুরআনের গুরুত্ব
কুরআন শিক্ষা না করার পরিণতি
কুরআন হাদিসের আলোকে শিক্ষার গুরুত্ব