Header Ads

আমাদের জন্য লিখুন!

কিভাবে এলো বাংলা সন, যেভাবে শুরু পহেলা বৈশাখ

কিভাবে এলো বাংলা সন, যেভাবে শুরু পহেলা বৈশাখ

এসো হে বৈশাখ এসো এসো, আজ পহেলা বৈশাখ, বাংলা নববর্ষ। বাঙালির প্রাণের এ উৎসব উদযাপনে প্রস্তুত গোটা জাতি। উৎসব আমেজে দিনটি পালনের আগে একটু পেছন ফিরে দেখা যাক। জেনে নেয়া যাক, কীভাবে এলো বাংলা সন বা বঙ্গাব্দ? আর আজকে যে পহেলা বৈশাখ পালনের এত আনুষ্ঠানিকতা, এর শুরুটা হয়েছিল কীভাবে?

খ্রিস্টাব্দ আর হিজরী সনের অপূর্ব সমন্বয়ে গড়া বাংলা সন বা বঙ্গাব্দ। কৃষিকে কেন্দ্র করেই এর উৎপত্তি, এ নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই। তবে বাংলা সন কখন কীভাবে প্রবর্তিত হয়েছে বা কে এ সনের প্রবর্তক তা নিয়ে আছে নানা মুনির নানা মত। পৃখিবীর সবদেশের ইতিহাসের মতোই বাংলাঅঞ্চলের ইতিহাসও রচনা হয়েছে শাসকগোষ্ঠীর পৃষ্ঠপোষকতায়। ঐতিহাসিকদের লেখায় সিংহাসনের অধিকারীদের শৌর্য-ঐশ্বর্য্য আর বংশ-পরম্পরা ওঠে এলেও ঠাই পায়নি সাধারণ মানুষের কথা। বাংলা সন বা বঙ্গাব্দ যেহেতু অচ্ছ্যুত প্রজাদের চাষাবাদের সুবিধা্য় প্রবর্তিত, তাই শাসকগোষ্ঠীর মুড়ি-মুড়কি খাওয়া ঐতিহাসিকদের রচনায় বাংলা সন উদ্ভবের কথা সেভাবে ঠাই পায়নি।

পরে পাল্টে যাওয়া সমাজব্যবস্থায় ঐতিহাসিকরা গণমানুষের কথা ইতিহাসে তুলে ধরলেও বঙ্গাব্দ উৎপত্তির অকাট্য কোনো তথ্য-প্রমাণ খুজেঁ পাননি। পরোক্ষ নানা সূত্র আর লোকমুখে প্রচলতি টুকরো ঘটনাকে একসূতায় গেঁথে বাংলা সনের প্রবর্তক হিসেবে সিংহভাগ কৃতিত্ব দেওয়া হচ্ছে মোঘল সম্রাট আকবরকে। পাশাপাশি বাংলা সনের পটভূমি তৈরি এবং এর বিকাশের পেছনে সুলতান হোসেন শাহ, রাজা শশাঙ্ক এবং তিব্বতি রাজা স্রংসনে অবদানের কথাও তুলে ধরেছেন গবেষক ও পন্ডিতরা।

গবেষকদের ব্যাখ্যা বিশ্লেষনে বাংলা সন প্রবর্তনে মোঘল সম্রাট আকবরের ভূমিকা ওঠে এসেছে। এ প্রসঙ্গে তারা সম্রাট আকবরের সভাজন ঐতিহাসিক আবুল ফজলের আই্ন-ই-আকবরি গ্রন্থ সামনে রেখে বলছেন, গ্রন্থে বলা হয়েছে, সম্রাট আকবর প্রজাদের চাষাবাদে চন্দ্রবছর হিজরী সন অনুসরনের অসুবিধার বিষয়ে অবগত হয়েছেন। তিনি হিজরি অব্দ ব্যবহারের বিরোধী। আকবর বহুদিন ধরে হিন্দুস্থানের বিভিন্ন অঞ্চলে (দিন গণনার) সমস্যাকে সহজ করে দেওয়ার জন্য এক নতুন বছর ও মাস গণনাক্রম প্রবর্তন করতে আগ্রহী। এর নাম হলো ‌’ইলাহি সন’।

সম্রাট আকবরের এই ‘ইলাহি অব্দ’ হলো সাধারণ কৃষকদের মাঝে চাষাবাদের সুবিধার্থে প্রচলিত দিন-মাস গণনার একটি সমন্বিত রূপ। ভারতবর্ষের সিংহাসনে সম্রাট আকবর আরোহন করেন ১৫৫৬ খ্রিষ্টাব্দে। তখন হিজরি সন ছিল ৯৬৩। বর্তমানে প্রচলতি বাংলা সনের হিসেবেও সেটি ছিল ৯৬৩ বঙ্গাব্দ। তার সিংহাসনে বসার বছরটি থেকেই চন্দ্রবর্ষ হিজরির পরিবর্তে সৌরবর্ষ ‌‌’ইলাহি সন’ গণনা শুরু হয়। যার পরিমার্জিত ও পরিবর্তিত রূপই হলো বাংলা সন।

পন্ডিতদের মতে, মুঘল আমলে রাজারা খাজনা আদায় করতেন চান্দ্রবর্ষ অনুযায়ী। চাঁদের উদয় অস্তের হিসাব করে গোনা হয় চান্দ্রবর্ষ। যেমন, আরবি হিজরি সন হলো চান্দ্রবর্ষ। আর সূর্যের চারদিকে পৃথিবীর পরিক্রমণের ওপর ভিত্তি করে হিসাব করা হয় সৌরবর্ষ। তখনকার দিনে কৃষকদের খাজনা চান্দ্রবর্ষ অনুযায়ী দিতে হতো। কিন্তু কৃষক তার জমির ফসল ঘরে তুলতে পারত একটি নিদিষ্ট সময় পর পর। চান্দ্রবর্ষ প্রতিবছর ১১ দিন করে এগিয়ে যেত যা কৃষকের খাজনা দেয়া ও ফসল তোলার মধ্যে সমস্যা তৈরি করত। এতে কৃষকের খাজনা দেয়া কঠিন ব্যাপার হয়ে যেত।

সম্রাট আকবর তার শাসনামলের শুরু থেকেই সহজ, বিজ্ঞানভিত্তিক ও কার্যকর পদ্ধতিতে বছরের হিসাব রাখার কথা ভাবছিলেন। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনার দায়িত্ব পড়ে সে সময়ের বিশিষ্ট বিজ্ঞানী ও জ্যোর্তিবিদ আমির ফতুল্লাহ শিরাজীর ওপর। তার প্রচেষ্টায় ১৫৮৪ সালের ১১ মার্চ ‘ইলাহী সন’ নামে নতুন এক সন চালু হয়। সে সময়ের কৃষকশ্রেণীর কাছে এটি ‘ফসলি সন’ নামে পরিচিত হয়। পরে এটি ‘বঙ্গাব্দ’ নামেই পরিচিতি পায়।

কোনো কোনো পণ্ডিত বাংলা সন বা বঙ্গাব্দে প্রবর্তনের জন্য গৌড়ের সম্রাট শশাঙ্ক, তিব্বতের রাজা স্রংসনকেও (তিনি৬০০ খ্রিস্টাব্দের কিছু আগে রাজা হন এবং মধ্যভারত ও পূর্ব ভারত জয় করে দুই দশক রাজত্ব করেন) এবং সুলতান হোসেন শাহ মর্যাদা দিতে চান।

একদল গবেষকের মতে, সম্রাট শশাঙ্ক গৌড়বঙ্গে স্বাধীনভাবে রাজত্ব শুরু করেছিলেন ৫৯৪ খ্রিস্টাব্দের ১২ এপ্রিল। ওই দিন থেকে বঙ্গাব্দের গণনা শুরু হয়েছিল। আরেকদল বলছেন, ‘৬০০ খ্রিস্টাব্দের কিছু আগে স্রংসন নামে এক তিব্বতি রাজা মধ্য ও পূর্ব ভারত জয় করেন। তিনি তিব্বতের কৃষিকাজে প্রচলিত মওসুম ভিত্তি দিন গণনা ভারতবর্ষে চালু করেন। স্রংসনের নামের শেষাংশ থেকে বাংলা ‌’সন’ এসেছে। এই দুই মতের বিরোধীতা পণ্ডিতদের অপর একটি দল বলছেন, সুলতান হোসেন শাহের সময়ে বঙ্গাব্দ বা বাংলা সন চালু হয়। সুলতান হোসেন শাহ নিজেকে বাঙালি বলে পরিচয় দিতে গর্ব অনুভব করতেন। ‘শাহ-এ-বাঙালিয়ান’ বলে নিজের পরিচয় লিপিবদ্ধ করেছেন তিনি। বাংলা ভাষা, সাহিত্য ও বাঙালিত্বের বিকাশেও শামসুদ্দিন ইলিয়াস শাহ ও সুলতান হোসেন শাহের অবদান বিরাট। তার আমলেই প্রথম কৃষকদের ‘ফসলি সন’ শাসকগোষ্ঠীর আনুকূল্য পায়।

শশাঙ্ক, স্রংসন আর সুলতান হোসেন শাহকে বাংলা সন প্রবর্তনের সঙ্গে জড়ানোর পক্ষে কোনো প্রামাণ্য দলিল অবশ্য কেউই এখন পর্যন্ত উপস্থাপন করতে পারেননি। তাদের দাবি, লোকমুখে প্রচলতি নানা সূত্র ও অনেকটা অনুমানভিত্তিক। গ্রণ্থসূত্র বিবেচনায় আবুল ফজলের ‌’আই্ন-ই-আকবরি’-তে উল্লেখ থাকায় মোঘল সম্রাট আকবরকেই বাংলা সন বা বঙ্গাব্দ প্রবর্তনের মর্যাদা দিয়েছেন নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেনসহ সিংহভাগ গবেষক।

বাংলা সনের আধুনিকায়ন:
বাংলা সন বা বঙ্গাব্দকে আজকের আধুনিক ও বৈজ্ঞানিক রূপ দেওয়ার কৃতত্ব অবশ্য বাংলা একাডেমির। ১৯৬৬ সালে ডঃ মুহম্মদ শহীদুল্লাহ’র নেতৃত্বে একটি কমিটি বাংলা সনের বিভি ন্নমাস ও ঋতুতে গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর আর্থ-সাংস্কৃতিক জীবনে কিছু সমস্যা ও প্রতিবন্ধকতাকে নির্ণয় করেন। যার মধ্যে ছিল বাংলা সনের ব্যাপ্তি গ্রেগরীয় বর্ষপঞ্জীর মতনই ৩৬৫ দিনের। যদিও সেখানে পৃথিবীর সূর্যকে প্রদক্ষিণের পরিপূর্ণ সময়কেই যথাযথভাবে নেয়া হয়েছে। এই প্রদক্ষিণের মোট সময় ৩৬৫ দিন ৫ ঘণ্টা ৪৮ মিনিট এবং ৪৭ সেকেন্ড। এই ব্যবধান ঘোচাতে গ্রেগরীয় বর্ষপঞ্জীর প্রতি চার বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে একটি অতিরিক্ত দিন যোগ করা হয়। জ্যোতির্বিজ্ঞান নির্ভর হলেও বাংলা সনে অতিরিক্ত এই দিনটি রাখা হয়নি। বাংলা মাস অন্যান্য সনের মাসের মতনই বিভিন্ন পরিসরের হয়ে যাচ্ছি।

এই সমস্যাগুলোকে দূর করতে ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ কমিটি প্রস্তাবণায় বাংলা একাডেমি বাংলা সন আধুনিকায়ন ও সংস্কারের উদ্যোগ নেয়। সিদ্ধান্ত হয়, বছরের প্রথম পাঁচ মাস অর্থাৎ বৈশাখ হতে ভাদ্র হবে ৩১ দিনের। পরের মাসগুলো অর্থাৎ আশ্বিন হতে চৈত্র হবে প্রতিটি ৩০ দিনের মাস। প্রতি চতুর্থ বছরের ফাল্গুন মাসে অতিরিক্ত একটি দিন যোগ করে তা হবে ৩১ দিনের। একই সঙ্গে সিদ্ধান্ত হয়, বঙ্গাব্দের দিন গণনা শুরু হবে সূর্য ওঠার সঙ্গে সঙ্গেই। ইংরেজি সন (খ্রিস্টাব্দে) দিন গণনা হয় রাত ১২টা থেকে। বাংলা ও ইংরেজি নববর্ষ উদযাপনের একটা বড় পার্থক্য হলো, ইংরেজি নববর্ষ উদযাপন করা হয় ঠিক রাত ১২টা থেকে আর বাংলা নববর্ষ উদযাপন করা হয় সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে।

পহেলা বৈশাখ উদযাপন যেভাবে শুরু:
খ্রিস্টপূর্ব দুই হাজার সালে প্রাচীন ব্যাবিলনে নতুন বছর শুরু হতো নতুন চাঁদ দেখা সাপেক্ষে। পহেলা বৈশাখ বাংলা পঞ্জিকার প্রথম মাসের প্রথম দিন, তাই এটি বাংলা নববর্ষ। দিনটি বাংলাদেশ এবং ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, ত্রিপুরা ও আসামে নববর্ষ উৎসব আমেজে পালন করা হয়।

মজার ব্যাপার হলো, আগে কৃষকদের মধ্যে ‌’ফসলি সন’ হিসেবে প্রচলিত আজকের বাংলা সন শুরু হতো অগ্রহায়ন মাস থেকে। পহেলা অগ্রহায়ন ছিল নববর্ষ। অগ্রাহয়নে কৃষকরা মাঠের ফসল গোলায় তুলে অভাব-অনটন ভুলে একই সঙ্গে নববর্ষ ও নবান্নের উৎসবে মেতে ওঠতো। কৃষকদের সেই ফসলি সনকে নতুন করে বিন্যস্ত করেন মোঘল সম্রাট আকবর।

ঐতিহাসিকদের মতে, আকবরের সময়কাল থেকেই পহেলা বৈশাখ উদযাপন শুরু হয়। তখন প্রত্যেককে চৈত্র মাসের শেষ দিনের মধ্যে সকল খাজনা, মাশুল ও শুল্ক পরিশোধ করতে হতো। এর পর দিন অর্থাৎ পহেলা বৈশাখে ভূমির মালিকরা নিজ নিজ অঞ্চলের অধিবাসীদের মিষ্টি দিয়ে আপ্যায়ন করতেন। এ উপলক্ষে বিভিন্ন উৎসবের আয়োজন করা হতো। তখনকার সময় এই দিনের প্রধান ঘটনা ছিল একটি হালখাতা তৈরি করা। হালখাতা হলো একটি নতুন হিসাব বই। এটা বাংলা সনের প্রথম দিনে দোকানপাঠের হিসাব আনুষ্ঠানিকভাবে হালনাগাদ করার প্রক্রিয়া।

পহেলা বৈশাখ গ্রামীণ সমাজে চৈত্র সংক্রান্তি ও বৈশাখী মেলার মাধ্যমে পালন করা হলেও একশ বছর আগে এই উৎসব ছিল নগরজীবনে অনুপস্থিত। কলকাতা ও ঢাকায় আধুনিক নববর্ষ উদযাপনের খবর প্রথম পাওয়া যায় ১৯১৭ সালে। এরপর বিচ্ছিন্নভাবে পহেলা বৈশাখ পালন করা হলেও তা নগরজীবনে কিছুটা ব্যাপকতা পায় ষাটের দশকে। পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠির নিপীড়ন ও বাঙালি সংস্কৃতির প্রতি বিমাতসুলভ আচরণ মানুষকে ক্ষুব্ধ করে। তারই প্রতিবাদে ঢাকায় সংস্কৃতিকর্মীর সীমিত পরিসরে রমনা পার্কে পহেলা বৈশাখ উদযাপন শুরু করে। ১৯৬৭ সাল ছায়ানট যুক্ত হয় এই বর্ষবরণ অনুষ্ঠানের সঙ্গে। পহেলা বৈশাখ উদযাপনের পরিধিও বেড়ে যায়। স্বাধীনতার পর তা আরো ব্যাপকতা পায়। নব্বই দশকে গণতান্ত্রিক আন্দোলন শেষে সেনাশাসনের অবসানের পর বাঙালি সংস্কৃতির প্রতি মানুষের আকর্ষণ বাড়তে থাকে। এভাবেই পহেলা বৈশাখ আজকের সার্বজনীন রূপ লাভা করেছ।

রমনা বটমূলে ছায়ানটের বর্ষবরণ ও মঙ্গল শোভাযাত্রা:
রাজধানীতে পহেলা বৈশাখের অনুষ্ঠানের কেন্দ্রবিন্দু সাংস্কৃতিক সংগঠন ছায়ানটের গানের মাধ্যমে নতুন বছরের সূর্যকে আহ্বান। ১৯৬৭ সাল থেকে পহেলা বৈশাখ সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে ছায়ানটের শিল্পীরা সম্মিলিত কণ্ঠে গান গেয়ে নতুন বছরকে আহ্বান জানান। স্থানটির পরিচিতি বটমূল হলেও প্রকৃতপক্ষে যে গাছের নিচে মঞ্চ তৈরি হয় সেটি বট গাছ নয়, অশ্বত্থ গাছ।

ঢাকায় বৈশাখী উৎসবের একটি প্রধান অঙ্গ মঙ্গল শোভাযাত্রা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইনস্টিটিউটের উদ্যোগে পহেলা বৈশাখ সকালে এই শোভাযাত্রাটি বের হয়ে শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় চারুকলা ইনস্টিটিউটে এসে শেষ হয়। এই শোভাযাত্রায় গ্রামীণ জীবন এবং আবহমান বাংলাকে ফুটিয়ে তোলা হয়। শোভাযাত্রায় সব শ্রেণী-পেশার বিভিন্ন বয়সের মানুষ অংশগ্রহণ করে। শোভাযাত্রার জন্য বানানো হয় রং-বেরঙের মুখোশ ও বিভিন্ন প্রাণীর প্রতিলিপি। ১৯৮৯ সাল থেকে এই মঙ্গল শোভাযাত্রা পহেলা বৈশাখের উৎসবের একটি অন্যতম আকর্ষণ।

চট্টগ্রামে বর্ষবরণ:
বন্দরনগরী চট্টগ্রামে পহেলা বৈশাখের উৎসবের মূল কেন্দ্র ডিসি পাহাড় পার্ক। সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের আয়োজনে এখানে পুরোনো বছরকে বিদায় ও নতুন বছরকে বরণ করার জন্য দুইদিনের অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। মুক্তমঞ্চে নানা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের পাশাপাশি থাকে নানা গ্রামীণ পণ্যের পশরা। থাকে পান্তা ইলিশের ব্যবস্থাও। চট্টগ্রামে সম্মিলিতভাবে পহেলা বৈশাখ উদযাপনের উদ্যোগ ১৯৭৩, ১৯৭৪ ও ১৯৭৫ সালে রাজনীতিকদের প্রচেষ্টায়। ইস্পাহানি পাহাড়ের পাদদেশে এই অনুষ্ঠান আয়োজিত হয়। ১৯৭৮ সালে এই উৎসব এখনকার ডিসি হিল পার্কে সরিয়ে নেয়া হয়। ১৯৭৮ সালের উদ্যোগের সঙ্গে জড়িত ছিলেন ওয়াহিদুল হক, নির্মল মিত্র, মিহির নন্দী, অরুন দাশ গুপ্ত, আবুল মোমেন, সুভাষ দে প্রমুখ।

প্রথম দিকে প্রত্যেক সংগঠন থেকে দুইজন করে নিয়ে একটি স্কোয়াড গঠন করা হতো। সেই স্কোয়াডই সম্মিলিত সংগীত পরিবেশন করতো। ১৯৮০ সাল থেকে সংগঠনগুলো আলাদাভাবে গান পরিবেশন শুরু করে। পরে গ্রুপ থিয়েটার সমন্বয় পরিষদ যুক্ত হওয়ার পর অনুষ্ঠানে নাটকও যুক্ত হয়েছে। নগরীর অন্যান্য নিয়মিত আয়োজনের মধ্যে রয়েছে শিশু সংগঠন ফুলকীর তিনদিন ব্যাপী উৎসব যা শেষ হয় বৈশাখের প্রথম দিবসে। নগরীর মহিলা সমিতি স্কুলে একটি বর্ষবরণ মেলা হয়ে থাকে।

পার্বত্য জেলায় আদিবাসীদের বর্ষবরণ:
বাংলাদেশের পার্বত্য চট্টগ্রাম এলাকার প্রধান তিনটি ক্ষুদ্র জাতিসত্তা রয়েছে যাদের প্রত্যেকেরই বছরের নতুন দিনে উৎসব আছে। ত্রিপুরাদের বৈশুখ, মারমাদের সাংগ্রাই ও চাকমাদের বিজু উৎসব। বর্তমানে তিনটি জাতিসত্ত্বা একত্রে এই উৎসবটি পালন করে। যৌথ এই উৎসবের নাম বৈসাবি।

সম্পর্কিত অনুসন্ধান:
পহেলা বৈশাখ অনুচ্ছেদ
বাংলা নববর্ষ রচনা ছবি
ছোটদের পহেলা বৈশাখ রচনা
pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj pj