Header Ads

পেঁয়াজের উপকারিতা

কম-বেশি প্রায় সব রান্নাতেই পেঁয়াজের ব্যবহার রয়েছে। পেঁয়াজ ছাড়া বাঙালির রান্নাঘর যেন অচল। পেঁয়াজ কাটতে গেলে চোখে পানি চলে আসে। তবে এই পেয়াজ যে স্বাস্থ্যের পক্ষে কতটা উপকারি তা জানলে আপনি অবাক হতে বাধ্য। প্রয়োজনীয় পুষ্টিগুণের সঙ্গে এতে ফাইটোকেমিক্যাল রয়েছে, যা আমাদের শরীরে নানা উপকারে আসে।মাছ, মাংস, ডাল, শাক-সবজি যা রান্না করুক না কেন স্বাদ বৃদ্ধির জন্য এসব তরি-তরকারির মধ্যে পেঁয়াজের ব্যবহার যেন বাধ্যতা মূলক। এছাড়াও ছালাদ, চাটনী বা ভর্তায়ও ব্যবহার হয়ে থাকে এ পেঁয়াজ। বিভিন্ন ভাবে খাবারের মধ্যে স্বাদের লক্ষ্যে ব্যবহার করে আসলেও কিন্ত পেঁয়াজের মধ্যে অসংখ্য উপকারিতা রয়েছে বলে চিকিৎসা বিজ্ঞান ও ভেষজবীদরা জানিয়েছেন। স্যালাদ থেকে স্যান্ডউইচ, কিংবা শুধু মুড়িতে মেখে যেমন নানা ভাবে পেঁয়াজ খাওয়া যায়, তেমনই এর রয়েছে নানাবিধ গুণ। আমাদের আজকের এই প্রতিবেদনে একবার দেখে নিন পেঁয়াজের গুণাগুণ সম্পর্কে-


১। সংক্রমণ সারায়-
এর মধ্যে কার্মিনেটিভ, অ্যান্টিমাইক্রোবায়াল, অ্যান্টিসেপ্টিক এবং অ্যান্টিবায়োটিক জাতীয় পদার্থ মজুত রয়েছে। তাই শরীরে কোথাও সংক্রমণ ঘটে থাকলে কাঁচা পেঁয়াজ একটু বেশি খান, চটজলদি উপকার পাবেন।

২। পুষ্টিগুণে ভরপুর-
প্রচুর পরিমাণে বিভিন্ন ভিটামিন, মিনারেল, ফাইবার, ক্যালসিয়াম, পটাসিয়াম, সালফার, ভিটামিন B এবং C থাকে।

৩। জ্বর-সর্দিতে অসাধারণ কাজ করে-

ঠান্ডা লাগার ফলে গলা ব্যথা, সর্দি-কাশি, জ্বর, অ্যালার্জি বা সামান্য গা ব্যথায় দারুণ কাজ করে। সামান্য পেঁয়াজের রসের সঙ্গে একটু মধু মিশিয়ে খান। জলদি সেরে উঠবেন।

৪। দেহের তাপমাত্র কমায়-

জ্বরে দেহের তাপমাত্রা বেশি থাকলে পাতলা করে কাটা পেঁয়াজ কপালে রাখলে কিছু ক্ষণের মধ্যে তাপমাত্রা কমিয়ে দেবে।

৫। নাক থেকে রক্ত পড়া বন্ধ-
গ্রীষ্মে বা শীতে অনেকের নাক থেকে রক্তপাত হয়। যদি এ সময়ে কাছাকাছি পেঁয়াজ থাকে তাড়াতাড়ি কেটে তার ঘ্রাণ নিতে থাকুন। রক্তপাত কমে যাবে বা একেবারে বন্ধ হয়ে যাবে।

৬। হজমশক্তি বাড়ায়-
যাদের হজমে সমস্যা রয়েছে তাঁরা রোজ একটু কাঁচা পেঁয়াজ খান। পেঁয়াজ খাবার হজমের জন্য প্রয়োজনীয় বিভিন্ন এনজাইম বাড়াতে সাহায্য করে। যার ফলে দ্রুত খাবার হজম হয়।

৭। ত্বকের সমস্যা মেটায়-
পোকামাকড়ের কামড় হোক, বা রোদে পোড়া ট্যান, কিংবা ব্রণ-ফুস্কুরি, এ সবের সমস্যা থাকলে সে সমস্ত জায়গায় একটু পেঁয়াজের রস লাগান। একটু কুটকুট করতে পারে, তবে দ্রুত কাজ করবে।

৮। ক্যান্সারের সঙ্গে লড়ে-
কোলন ক্যান্সারের মতো রোগের সঙ্গে লড়তে সাহায্য করে।

৯। হৃদয় এবং হাড় ভালো রাখে-
হাড়ের কঠিন ব্যারাম অ্যাথেরসক্লেরোসিস এবং অস্টিওপোরোসিসের মতো রোগের সঙ্গে লড়ে। তার সঙ্গে দেহে খারাপ কোলেস্ট্রল কমায়। যার ফলে আপনার হার্ট সুস্থ থাকে।

১০। ডায়াবেটিকদের জন্য খুব ভালো-
দেহে ইনসুলিনের মাত্রা বাড়াতে এবং রক্তে শর্করার মাত্রা ঠিক রাখতে পেঁয়াজ অত্যন্ত ভালো। যারা ডায়াবেটিক তারা চিকিত্স কের পরামর্শ নিয়ে রোজ পেঁয়াজ খান।

১১। যৌন ক্ষমতা বাড়াতে পেঁয়াজ :
পেঁয়াজ যৌন ক্ষমতা বাড়াতে সহায়তা করে। প্রতিদিন অন্তত এক গ্লাস করে পেঁয়াজের রস খেলে যৌন ক্ষমতা বাড়ে। এভাবে নিয়মিত খেলে যৌন ক্ষমতা প্রায় ২০০% বেড়ে যায়। যারা পেঁয়াজের রস খেতে পছন্দ করেন না তাঁরা খাবারের সাথে কাঁচা পেঁয়াজ খেলেও উপকার পাবেন।

১২। শরীর বিষ মুক্ত করে পেঁয়াজ:
পেঁয়াজে প্রচুর পরিমাণে প্রাকৃতিক সালফার যৌগ আছে যা শরীরের জন্য অত্যন্ত উপকারী। সালফারে এমিনো এসিড আছে যা রসুন ও ডিমে পাওয়া যায়। এই এমিনো এসিড গুলোকে মিথিওনাইন ও সিস্টাইন বলা হয়। এই উপাদান গুলো শরীরকে বিভিন্ন ক্ষতিকর ধাতুর থেকে মুক্তি দেয়। এমন কি এগুলো শরীর থেকে সীসা, আর্সেনিক ও ক্যাডমিয়াম বের করে দেয়। পেঁয়াজে ভিটামিন সি আছে যা শরীরকে বিশুদ্ধ করে এবং সীসা, আর্সেনিক ও ক্যাডমিয়াম থেকে শরীরকে রক্ষা করে।

১৩। হিটস্ট্রোক থেকে রক্ষায় পেঁয়াজ :
সঠিক সময়ে চিকিৎসা না করালে হিটস্ট্রোক অত্যন্ত বিপজ্জনক হতে পারে। এই ধরনের স্ট্রোক হলে পায়ের ওপর এবং ঘাড়ের পেছনে পেঁয়াজ বেঁটে দিলে শরীরে ঠান্ডা প্রভাব ফেলে, যা স্ট্রোক থেকে রক্ষা করে।

১৪।  কাশি নিরাময়ে উপকারি পেঁয়াজ :
পেঁয়াজের রস, আদা এবং তুলসি পাতা একসাথে খেলে কাঁশি দূর হয়। এ ছাড়া যাদের দীর্ঘদিন ধরে বুকের মধ্যে কফ জমে আছে তারা প্রতিদিন সকালে এই তিন পদ মিশিয়ে খেলে উপকার পাবেন। এছাড়া পেঁয়াজের মধ্যে আরো বহু গুনাগুন রয়েছে। তবে এ পেঁয়াজের গন্ধটা এবাদতের একাগ্রতাকে একটু বাঁধা প্রদান করে বলেও অনেকেই বলে থাকেন। তাই যে কোন সময় যখন-তখন যত্রতত্র পেঁয়াজে ব্যবহার জেনে ও বুঝে-শুনে করা ভাল।

১৫। গলা ও ঘাড়ে কালো ছোপ ছোপ দাগ :
যাদের গলা ও ঘাড়ে কম বেশ কালো ছোপ ছোপ দাগ আছে তারা পেঁয়াজ আর লেবু ঘষুন। দেখবেন দাগ চলে যাবে।

১৬।  খুশকি দূর করবে পেঁয়াজ :
পেঁয়াজের রস খুব দ্রুত খুশকি দূর করতে সাহায্য করে। পেঁয়াজ মিহি করে বেটে নিয়ে রস ছেঁকে নিন। পেঁয়াজের রস চুলের গোড়ায় ভালো করে ঘষে ঘষে লাগান। ২০-২৫ মিনিট রেখে দিন তারপর চুল ভালোভাবে শ্যাম্পু করে ধুয়ে ফেলুন। সপ্তাহে অন্তত দুবার এভাবে মাথায় পেঁয়াজের রস লাগান। এতে করে খুশকির সাথে মাথা চুলকানিও কমে যাবে।

১৭।  নতুন চুল গজাতে পেঁয়াজ :
যেসব জায়গায় চুল বেশি পাতলা, পেঁয়াজ কেটে ঘষলে সেই অঞ্চলের blood circulation বাড়ে, ফলে তা নতুন চুল গজাতে সাহায্য করে। আপনার হেয়ার ফলিকল এর কোনও অংশ ক্ষতিগ্রস্ত থাকলে নিয়মিত ব্যবহারে তা সারিয়ে তোলে। যাদের চুল পাতলা তারা সপ্তাহে ২-৩ দিন ১০-১২ মিনিটের জন্য মাথার তালুতে পেঁয়াজ ঘষে ব্যবহার করলে কিছুদিনের মধ্যেই ফল পাবেন।