Header Ads

এক বছরে একটি গাছ আমাদের যা দেয়

একটি গাছ ১ বছরে আমাদের যা দেয় তা হলো ১০টি এয়ারকন্ডিশনার সমপরিমাণ শীততাপ তৈরি করে, ৭৫০ গ্যালন বৃষ্টির পানি শোষণ করে এবং ৬০ পাউন্ডের বেশি ক্ষতিকারক গ্যাস বাতাস থেকে শুষে নেয়। ১ গ্রাম পানি বাষ্পীভবনে ৫৮০ ক্যালরি সৌরশক্তি ব্যয় হয়। ১টি বড় গাছ দিনে ১০০ গ্যালন পানি বাতাসে ছেড়ে দেয়। ১ হেক্টর সবুজ ভূমি থেকে উদ্ভিদ প্রতিদিন গড়ে ৯০০ কেজি কার্বন-ডাই-অক্সাইড গ্রহণ করে এবং ৬৫০ কেজি অক্সিজেন দেয় সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়াকালে। ১টি মাঝারি আকৃতির আমগাছ ৪০ বছরে ১৪ লাখ টাকা মূল্যের অক্সিজেন তৈরি করে। ৫ হেক্টর পরিমাণ বনভূমি থাকলে এলাকার ৩-৪ ডিগ্রি তাপমাত্রা কমে যায়, ভূমিক্ষয় রোধ এবং বাতাসে আর্দ্রতা বাড়ায়। বৃক্ষরাজি ৮৫-৯০% শব্দ শোষণ করে, শব্দ দূষণ থেকে আমাদের রক্ষা করে।

১ লাখ ইট পোড়াতে ২৫০০ মণ জ্বালানি কাঠ দরকার হয়। আমাদের দেশে প্রতি বছর রান্নার জন্য প্রায় ১০৭ কোটি মণ জ্বালানি কাঠ দরকার হয়। জরিপ বলে ফিনল্যান্ডে ৭৪%, মিয়ানমার ৬৪%, জাপানে ৬৩%, সুইডেনে ৫৫%, কানাডাতে ৪৫%, যুক্তরাষ্ট্রে ৩৪% এবং ভারতে ২০% আর বাংলাদেশে মাত্র ০৯% মতান্তরে ১৭% বনায়ন আছে। অথচ কমপক্ষে ২৫% বনভূমি থাকা প্রয়োজন। একজন সুস্থ মানুষের দৈনিক প্রায় ২৫০ গ্রাম সবজি এবং ১১৫ গ্রাম ফল খাওয়া প্রয়োজন। বাংলাদেশে আমরা মাথাপিছু ৪০-৪৫ গ্রাম করে ফল খেতে পারছি। সাধারণত মানুষের মেধা বিকাশের শতকরা ৪০ ভাগ হয়ে থাকে মাতৃগর্ভে এবং অবশিষ্ট ৬০ ভাগ বিকাশ হয়ে থাকে জন্মের ৫ বছরের মধ্যে। ভিটামিন-এ’র অভাবে প্রতি বছর প্রায় ৩০-৪০ হাজার শিশু রাতকানা রোগে অন্ধত্বের শিকার হয়। অথচ পুষ্টি জোগান এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে ফলগাছের রয়েছে ব্যাপক অবদান।
ইতিহাসের প্রমাণ করে, গাছ লাগিয়েছেন আমাদের প্রিয় নবী হজরত মুহম্মদ (সা.)। সম্রাট আকবর তৈরি করেছেন আ¤্রকানন যা কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে আজও বিরাজমান, স¤্রাট শাহজাহান তৈরি করেছেন লাহোরের সালিমারবাগ,  ব্যাবিলনের ঝুলন্ত উদ্যান এখনও জলন্ত দৃষ্টান্ত। তাছাড়া প্রচলিত হয়ে আছে, কোনো ভালো উদ্যোগ বা কাজ শুরু করলে তার উদ্বোধন করা হয় গাছ লাগিয়ে। এক সময়ের ঘোড়া দৌড় আর মূল্যহীন কাজের আড্ডা ছিল ঐতিহাসিক রেসকোর্স ময়দান, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান একটি নারিকেল গাছের  চারা রোপণ করে রেসকোর্স ময়দানের নতুন নাম দেন সোহরাওয়ার্দী উদ্যান। বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ নং ১৮ ক মোতাবেক পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ, উন্নয়ন ও নিরাপত্তা বিধান করা হয়েছে সুস্পষ্টভাবে।