Header Ads

বাড়িতে আগুন লাগলে যেভাবে নিরাপদ থাকবেন

দেশে বেড়েই চলেছে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা। এখন শুধু রাতেই নয়, দিনেও মানুষ আগুনের আতঙ্কে ভুগছেন। বর্তমানে অগ্নিকাণ্ড এক মূর্তিমান উদ্বেগ। পুরো দেশের মানুষ অগ্নিকাণ্ডের বিষয়ে সারা দিনই উদ্বিগ্ন থাকেন, কখন কোথায় যেন আগুন লেগে যায়!

২০১৯ এর ২০ ফেব্রুয়ারি রাতে  ঢাকার চকবাজারের চুড়িহাট্টায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে  প্রায় শতাধিক মানুষ নিহত হন। এরঈ মধ্যেই ২০১৯ এর  ২৮ মার্চ আবার ঢাকার বনানীতে ২৩ তলা বাণিজ্যিক ভবন এফ আর টাওয়ারে আগুন লাগে। ফায়ার সার্ভিসের নিরলস প্রচেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে এলেও এ ঘটনায় নিহত হন ২৬ জন। এরপর ছোটখাটো আগুনের ঘটনাতো প্রতিদিনের রুটিন হয়ে গেছে আমাদের দেশে।
যদিও আপনি মনে করেন যে আপনার বাড়ি ঘর বা বাসার মধ্যে কখনও আগুনের লাগবেনা , তারপরও প্রস্তুতি নিয়ে থাকা ভাল আর যদি এটা ঘটে যায় তাহলে আতঙ্ক এড়ানোর জন্য কী করবেন তা জানুন।
যদি আপনার বাড়িতে আগুন লাগে তবে আপনার প্রথম কাজটি হচ্ছে আপনি এবং আপনার পরিবারের সদস্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব যে কোন উপায়ে ঘর থেকে বের হওয়া। এ সময় ঘরে যদি মহা মূল্যবান রত্নও ঘরে থাকে তা খুজে সময় নষ্ট করবেন না।
নিরাপদ থাকতে এই পদক্ষেপ অনুসরণ করুন।

রান্না ঘরের প্রস্তুতি

১. রান্নাঘরে একটি বালতি ভরে বালু রাখুন। আগুন লাগ্লে কাজে লাগবে।
২. বাড়িতে রান্নাঘরের কাছাকাছি অন্যান্য ঘরের সংযোগস্থলে ফায়ার অ্যালার্ম (Smoke detector)  লাগাতে পারেন।

বাড়িতে আগুন লাগলে কী করবেন?

১. আগুন লাগ্লে আপনি দেখান মাত্র চিৎকার করে সবাইকে জানান দিন, আগুন-আগুন। আর চিৎকার করে করে দ্রুত বের হতে থাকুন। এটা ভয়ের চিৎকার না, সতর্কতার চিৎকার।

২. ঘরে আগুন লাগ্লে কোনো মূল্যবান জিনিস সংগ্রহের চেষ্টা না করাই ভাল, হোক সেটা যত মূল্যবান-ই। আপনি ও আপনার পরিবারের সদস্যদের জীবনই এ সময় সর্বাপেক্ষা মূল্যবান। সেইসাথে তখন ১ সেকেন্ড সময়ও অনেক মূল্যবান।

৩. ভয় পেয়ে একজায়গায় বসে বা দাঁড়িয়ে চেঁচামেচি করবেন না। বেরুবার পথ খুজুন। সাহস না হারিয়ে আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করুন। পরিস্থিতি যতটা শান্ত রাখা যায় বিপদ থেকে মুক্তির সম্ভাবনা তত বেশি।

৩. গায়ের মধ্যে যদি আগুন লেগে যায় মনে রাখবেন STOP, DROP, ROLL- কোনো অবস্থায় দৌড়ানোর চেষ্টা করবেন না, এমনকি পানির বালতি সামনে  দেখলেও। প্রথমে থামুন, তারপর গড়িয়ে গড়িয়ে যেদিকে যেতে চান সেদিকে চলে যান।

৪. নাক মুখ কাপড় দিয়ে পেঁচিয়ে ফেলুন যাতে ধোঁয়া ঢুক্তে না পারে, সামনে পানি পেলে কাপড় ভিজিয়ে নিন।

৫. সিঁড়িঘরে গিয়ে যদি দেখেন ধোঁয়া আসছে তাহলে কখনো ওপরে উঠার চেষ্টা করবেন না। ছাদে যাওয়ার চেষ্টা করবেন না। কারন ধোঁয়া বাতাসের থেকে হালকা- এজন্য তা ওপরের দিকে ওঠে। এবং সেটা ইনহেল করে। যার কারনে আপনি বেহুশ হয়ে যেতে পারেনে এবং তারপর অজ্ঞান অবস্থায় মারা যেতে পারেন।

৬. সিঁড়ি দিয়ে নামা যদি  বিপজ্জনক হয় তবে বারান্দা, বা জানালার কাছে চলে আসুন; এতে করে আপনি হাতে সময় বেশি পাবেন।

৭. ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন পথ পরিহার করুন। যদি বাধ্য হন ধোঁয়ার মধ্যে দিয়েই যেতে হবে তবে মনে রাখবেন - get low and go under the smoke.

রুম বা পথ ধোঁয়ায় ভরে গেলে তাড়াতাড়ি নিচু হয়ে যান। তখন হেটে বের হওয়ার চেষ্টা করবেন না। উপুড় হয়ে বা হামাগুড়ি দিয়ে বের হতে চেষ্টা করবেন। কারন ধোঁয়া ওপরে দিকে ওঠে বলে নিচের বাতাসে অক্সিজেন বেশি থাকে। এতে আপনি বেহুশ হওয়ার আগে অনেক সময় পাবেন।

ধোঁয়ায় কিছু দেখা না গেলে ও একাধিক সদস্য থাকলে একজনের পেছনে আরেকজন হামাগুড়ি দিয়ে বের হোন-একে অন্যের কাপড় বা পা ধরে।

সাহসী ও বিপদে দিশেহারা হননি এমন কেউ নেতৃত্ব নেবেন। কেউ কিছুক্ষণ পরে পরে সান্ত্বনা দেবেন- আমরা ঠিক আছি, সব ঠিক হয়ে যাবে ইনশাআল্লাহ- এমনটা বলতে থাকবেন।