Header Ads

রোজায় বদহজম সমস্যা? যা আমাদের জানা দরকার

রোজায় বদহজম সমস্যা? যা আমাদের জানা দরকার, দরকারি ইনফো, সেহরি ও ইফতার, ইসলামিক, স্বাস্থ্য তথ্যরোজা এলেই আমাদের খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন হয়ে থাকে। রমজানের আগে যেমন তিন বেলা অর্থাৎ সকালে, দুপুর এবং রাতে খাওয়া হয় কিন্তু রোজার সময় এই সময় পরিবর্তন হয়ে দুই বেলা অর্থাৎ সেহেরি ও ইফতারে খাওয়ার অভ্যাস তৈরি হয়। এছাড়া আরেকটি পরিবর্তন যেমন খাদ্যাভ্যাসের গুণগত মানও অনেক পরিবর্তন হয়ে যায় যেমন ইফতার মানেই তৈলাক্ত খাবারের প্রবণতা বেড়ে যায়। এর ফলে অনেকেরই বদহজমের সমস্যা হয়ে থাকে। যেহেতু  এসময় অনেকক্ষণ না খেয়ে থাকা হয় তারপর ইফতারে যদি ঝাল, ভাজাপোড়া খাওয়া হয় তাহলে তা শরীরে বদহজম, অ্যাসিডিটি, পেটে গ্যাস, ঢেকুর ইত্যাদি বিরক্তিকর সমস্যা সৃষ্টি করে থাকে। আসুন জেনে নিই রোজায় এসব সমস্যা প্রতিরোধে কী করা উচিত।

রোজায় খাদ্যাভ্যাসের ধরণ

রমজান এর সময় আমাদের অনেক সময় না খেয়ে থাকতে হয়। অনেকে মনে করেন যে রোযায় ওজন কমে কিন্তু খাদ্যাভ্যাসের নিয়ম মেনে না চলায় ঘটে উল্টো। সারাদিন না খেয়ে রোজার সময় ইফতারীতে অনেক সময় বেশি খাওয়া হয়। শুধু ইফতারিতে না সাহরির সময় অনেকে বেশি খাওয়া হয়। ইফতারিতে অনেক তৈলাক্ত খাবার যেমন পিয়াজু, বড়া, চপ ইত্যাদি খেলে ওজন বেড়ে যায়। যেহেতু আমরা অনেকক্ষণ না খেয়ে  থাকি রক্তের শর্করার পরিমাণ কমে যায়। সেজন্য রোযার সময় রোজার শেষের দিকে একটু মাথা ঝিম ঝিম হতে পারে তাই এ সময় শর্করা যাতে বাড়ে সেই সব খাবার দিয়ে ইফতার করা উচিত। এতে একদিকে যেমন পুষ্টির অভাব দূর হয় অপরদিকে স্বাস্থ্যও ভালো থাকে। এজন্য ইফতারের শুরুটা খেজুর দিয়ে করা সবচেয়ে বেশি দরকার । তবে ডায়াবেটিস থাকলে সেটা ভিন্ন কথা। এছাড়া নিম্নের কিছু নিয়ম মেনে চললে বদহজম, অ্যাসিডিটি ও বুক জ্বালাপোড়ার সমস্যায় রেহাই পাওয়া যেতে পারে।

ইফতারের সময়কার খাবারের তালিকা

  • ইফতারের শুরুটা করা যেতে পারে খেজুর, ফলের রস বা দুধ দিয়ে।
  • এসময় সালাদ বা তাজা মৌসুমি শাক-সবজি খাওয়া যেতে পারে।
  • ইফতার করা যায়  চিকেন বা ভ্যাজিটেবল স্যুপ দিয়ে।
  • হালিমে চর্বির পরিমাণ কম থাকে এছাড়া এতে প্রচুর প্রোটিন থাকায় এটি ইফতারের চমৎকার মেনু হতে পারে।
  • ইফতারে থাকতে পারে কাঁচা বা কম তেলে বা তেল ছাড়া তৈরি ছোলা। এর সঙ্গে লেবু, লবণ এবং অল্প মসলা যোগ করা যেতে পারে।
  • প্রোটিনের উৎস হিসেবে মুরগির মাংস, মাছ, ডাল, ছোলা বা শিম খাওয়া যেতে পারে।
  • জটিল শর্করা হিসেবে বাদামি চাল বা চাপাতি রুটি খাওয়া যেতে পারে।
  • ইফতারে রাখতে পারেন প্রচুর পরিমাণে শাক-সবজি।
  • এসিডিটি হলে পেঁপে বা আনারস খেতে পারেন যা অ্যান্টাসিডের কাজ করবে।
  • হজমের সমস্যা ঠিক করতে আদা ও লেবুর রস মিশিয়ে খেলে বেশ উপকার পাওয়া যায়।
  •  হজমের সমস্যা দূর করতে হলে পর্যাপ্ত পরিমাণ পানি পান করতে হবে।

সাহরিতে খাবারের তালিকা

সারাদিনের লম্বা সময় না খেয়ে থাকার ধকল সামলাতে সাহরিতে জটিল ধরনের শর্করা জাতীয় খাদ্য থাকা উচিত। এ ধরনের খাবার পরিপাক হতে দীর্ঘ সময় লাগে এবং সারা দিন প্রয়োজনীয় শক্তি সরবরাহে সাহায্য করে। রোযায় দীর্ঘ সময় উপবাস থাকতে হয় বলে সেহরিতে কমপ্লেক্স কার্বোহাইড্রেট বা জটিল শর্করা গ্রহণ করা উচিত। এই জটিল শর্করা ধীরগতিতে হজম হয় এবং হজম হতে প্রায় ৮ ঘণ্টা সময় লাগে। ফলে দিনের বেলায় ক্ষুধা কম অনুভূত হয়। জটিল শর্করা জাতীয় খাবারের মধ্যে রয়েছে শস্যদানা বা বীজ জাতীয় খাবার, অপরিশোধিত বা ননরিফাইনড আটা, ময়দা এবং ঢেঁকিছাঁটা চাল। সেহরিতে ভাতই খেতে হবে এমন কোনো কথা নেই। এজন্য যেসব খাবার সেহেরিতে খাওয়া যেতে পারে সেগুলো হলোঃ
  • তেল ছাড়া চাপাতি রুটি বা পরোটা।
  • দুধের সাথে সিরিয়ালস  মিশিয়ে খাওয়া।
  • তাজা এবং শুকনো ফল, যেমন-কলা ও খেজুর খাওয়া।
  • লবণ ছাড়া বাদাম খাওয়া।
  • প্রচুর তরল খাবার ও পানি পান করা।

রোজার সময় যেসব খাবার ও অভ্যাস থেকে বিরত থাকা উচিত

  • ডুবো তেলে ভাজা খাবার যেমনঃ বেগুনি, পিয়াজু, আলুর চপ ইত্যাদি খাওয়া থেকে বিরত থাকা উচিত। কারণ তেল ও চর্বিযুক্ত খাবারগুলো পুষ্টির চাহিদা পূরণ করেনা বরং এগুলো বদহজমও তৈরি করতে পারে।
  • খাবার শেষ করার সময় সিরাপ নির্ভর খাবার যেমনঃ জিলাপি খাওয়া থেকে বিরত থাকুন। এর পরিবর্তে এক বাটি তাজা ফলের সালাদ বা দই বড়া খাওয়া যেতে পারে।
  • রোজায় চা বা কফি পান করলে তা প্রস্রাবের পরিমাণ বাড়িয়ে দেওয়ার মাধ্যমে দেহ থেকে অতিরিক্ত তরল বের করে দেয়।  তাই এসব পানীয় যথা সম্ভব এড়িয়ে চলার চেষ্টা করা উচিত।যদি খালি পানি পান করতে একঘেয়ে লাগে তবে দুধ, দই, বরফ এবং ফলমূল দিয়ে তৈরি সালাদ খাওয়া যেতে পারে।
  • রাতের খাবারের পর কিছুক্ষণ বিশ্রাম নেওয়া এবং তারপর বাকি কাজ করা উচিত। ঘুমানোর আগে অন্য কিছু খাওয়া থেকে বিরত থাকা উচিত তবে অবশ্যই সাহরি বাদ দেওয়া যাবেনা।
  • পানিশূন্যতা রোধে ইফতার এবং সাহরির মধ্যবর্তী সময়ে প্রচুর পানি পান করতে হবে।

রমজান মাস ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ মাস। এই মাসে বছরের অন্যান্য সময়ের তুলনায় খাদ্যাভ্যাসে বিরাট পরিবর্তন দেখা যায়। তবে মনে রাখতে হবে যে রোজা শুধু আত্মশুদ্ধির মাসই নয়, এ মাস আত্মনিয়ন্ত্রণেরও মাস। এজন্য এ সময়ে খাবার-দাবারে আনতে হবে বিশেষ পরিবর্তন। এ সময় তাই স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়ার পাশাপাশি স্বাস্থ্যকর নিয়ম কানুন মেনে চলা উচিত