Header Ads

কালোজিরা বীজের আশ্চর্যজনক ঔষধি গুণ

কালো জিরা বীজের আশ্চর্যজনক ৫ ঔষধি গুণ
আমাদের নানা রকমের রান্নাবান্নায় অত্যন্ত প্রয়োজনীয় একটি উপাদান হল কালোজিরা বীজ তবে শুধু রান্নার স্বাদ বাড়াতেই এর ব্যবহার হয় না, আয়ুর্বেদিক চিকিৎসাতেও সেই প্রাচীন কাল থেকেই এই বীজের ব্যবহার হয়ে আসছে। কালিজিরাকে বলা হয় সর্বরোগের মহৌষধ। মাথার চুল থেকে পায়ের নখ সব রোগ নিরাময়ের ঔষধ এই কালোজিরা। সর্দি-কাশি, আমাশয়, ফুসফুসের প্রদাহ, মাথার যন্ত্রণা থেকে শুরু করে জন্ডিস বাতের ব্যাতা হাটুর ব্যাথা সকল রোগেরই উপযুক্ত দাওয়াই হল এই কালোজিরা। কালোজিরাতে রয়েছে ফসফেট, ফসফরাস আর আয়রন। এই সব খনিজ উপাদান শরীরের অনেক জটিল ও কঠিন রোগ থেকে মুক্ত রাখতে সাহায্য করে। তো চলুন দেরি না করে জেনে নেই কালোজিরা সম্পর্কে কিছু দরকারি তথ্য।

বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ (সঃ) বলেছেন, “তোমরা কালোজিরা ব্যবহার করবে, কেননা এতে একমাত্র মৃত্যু ব্যতীত সর্ব রোগের মুক্তি রয়েছে”।  তিরমিযি, বুখারি, মুসলিম।

কালোজিরাতে রয়েছে একাধিক আশ্চর্য স্বাস্থ্যগুণ, যেগুলি হয়তো আমাদের অনেকেরই অজানা। আসুন কালোজিরার আশ্চর্য সব স্বাস্থ্যগুণ সম্পর্কে সবিস্তারে জেনে নেওয়া যাক-

০১ - পেটের সমস্যায় খাবারের পাত্রে রাখুন কালোজিরা। ভাজা কালো জিরা গুঁড়ো করে আধা কাপ দুধের সঙ্গে মিশিয়ে খেতে পারলে তা পেটের অনেক সমস্যা দূরে রাখতে সাহায্য করে।

০২ - কালো জিরাতে থাকা ফসফরাস শরীরের রোগ প্রতিরোধে ক্ষমতা বাড়িয়ে তোলে। শরীরে যে কোনও জীবাণুর সংক্রমণ ঠেকাতে কালো জিরা অত্যন্ত কার্যকরী।

০৩ - অনেকেরই বর্ষাকালে মাথা যন্ত্রণা বা মাথা ঝিমঝিম করতে থাকে। এ ক্ষেত্রে একটা কাপড়ে কালো জিরা বেঁধে তা রোদে শুকোতে দিন। এরপর তা নাকের কাছে ধরলে মাথায়, বুকে জমে থাকা শ্লেষ্মা সহজেই বেরিয়ে যায়। আর মাথা যন্ত্রণার অস্বস্তিও কমে যায়।

০৪ - কালো জিরাতে থাকা আয়রন আর ফসফেট শরীরে অক্সিজেনের ভারসাম্য রক্ষা করে। তাই শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যা থেকে রেহাই পেতে পথ্য হিসেবে কালো জিরা খুবই কার্যকরী

০৫ - কালো জিরা দুর্দান্ত অ্যান্টি টক্সিনের কাজ করে। তাই নিয়মিত ও পরিষ্কার প্রস্রাবের জন্য পাতে রাখুন কালো জিরে। মুত্রথলির সংক্রমণ ঠেকাতেও কালো জিরা খুবই কার্যকরী!

০৬ - কালিজিরা নিয়মিত খেলে মস্তিষ্কের রক্ত চলাচল বৃদ্ধি করে স্মরণশক্তি বাড়ায়। এর সঙ্গে এটি প্রাণশক্তি বাড়ায় ও শরিরের সব ক্লান্তি দূর করে দেয়। স্মৃতিভ্রংশ ও স্মরণশক্তির দুর্বলতায় যারা ভূগছেন এই সমস্যায় কালোজিরা খুব কার্যকর। কালোজিরা ও মধু : ৩ গ্রাম কালোজিরা ২০ মিলিলিটার মধুর মিশিয়ে খেলে এ রোগ সারে। এতে সর্দি-কাশির সমস্যাও দূর হয়।

০৭ - কালি জিরা দাঁতের ব্যথা কমায়। হালকা গরম জলে কালোজিরা মিশিয়ে তা দিয়ে কুলি করলে দাঁতের ব্যথার উপশম হয়।

০৮ - লিভার ক্যান্সারের জন্য দায়ী আফলাটক্সিন নামক বিষ ধ্বংস করে দেয় কালিজিরা। যারা লিভার সমস্যায় আক্রান্ত তারা আজ থেকেই কালোজিরা খাওয়া শুরু করে দিন।

০৯ - ত্বকের শুষ্কতা- ঘিয়ের সঙ্গে কালোজিরা মিশিয়ে খেলে মুখ উজ্জ্বল হয় ও রং ফর্সা হয়।

১০ - মাথায় যন্ত্রণা – কাঁচা সর্দি থেকে মাথায় যন্ত্রণা হচ্ছে? এ ক্ষেত্রে কালোজিরা কাপড়ে পুঁটলি করে বেঁধে চুলার উপর শুকোতে হবে। তারপর তা হাতে রগড়ে নিয়ে সেই গন্ধটা শুকলে দারুন উপকার পাওয়া যায়।

১১ - জ্বর হলে সকাল-বিকাল লেবুর রসের সাথে কালোজিরার তেল পান করে দেখুন । এতে জ্বর দ্রুত সেরে যাবে ।

১২ - পক্ষাঘাত (প্যারালাইসীস) ও কম্পন রোগে কালোজিরার তৈল মালিশ কর দেখতে পারেন। এতে আশ্চর্যজনক ফলাফল পাওয়া যায়।

১২ - ছুলি বা শ্বেতী হলে আক্রান্ত স্থানে আপেলের টুকরো দিয়ে ঘষে নিন,তারপর কালো জিরার তেল লাগিয়ে দিন। এভাবে ২ স্পতাহ থেকে ৪ স্পতাহ পর্যন্ত নিয়মিত লাগান।

১৩ - চুলপড়া রোধে কালোজিরা নিয়মিতভাবে খতে পারেন এতে আপনার চুল পর্যাপ্ত পুষ্টি পাবে। ফলে চুল পড়া বন্ধ হয়ে নতুন চুল গজাতে সাহায্য করবে। আরো ভালো ফলাফল পেতে চুলের গোড়ায় কালিজিরা তেল মালিশ করতে পারেন।

১৪ - যাদের জন্ডিস, প্লীহাবৃদ্ধি আছে - কালোজিরা বেটে খেলে এ সব রোগ ভালো হয়।

১৫ - যাদের প্রস্রাবের বাধকতা আছে - নিয়মিত কালোজিরা খেলে বাধকতা দূর করে আর প্রস্রাব পরিষ্কার হয়ে যায়।

১৬ - ত্বকের শুষ্কতা- ঘিয়ের সঙ্গে কালোজিরা মিশিয়ে খেলে মুখ উজ্জ্বল হয় ও রং ফর্সা হয়

১৭ - হাঁটুর ব্যাথা কমাতে রোজ রাতে কালো জিরার তেল হাঁটুতে মালিশ করুন ,হাঁটুর ব্যাথা কমে যাবে ।

১৮ - অনিয়মিত পিরিয়ডে কালো জিরা – যে সব মহিলা অনিয়মিত পিরিয়ড এর সমস্যায় ভোগে থাকেন, তারা পিরিয়ড শুরুর পাঁচ-সাত দিন আগে থেকে অল্প গরম জলে ৫০০ মিলিগ্রাম কালোজিরা মিশিয়ে সকালে ও বিকেলে খেলে পিরিয়ড নিয়মিত হবে।

১৯ - বাতের ব্যাথা সারাতে কালোজিরার তেল প্রতিদিন মালিশ করতে পারেন ।

২০ - ডায়বেটিকস্ রোগীরা এক চিমটি পরিমাণ কালো জিরা এক গ্লাস পানির সঙ্গে প্রতিদিন সকালে খালি পেটে খেতে পারেন কালিজিরা, দেখবেন রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা কমিয়ে ডায়বেটিকস্ নিয়ন্ত্রণে আনবে এবং একসময় ডায়বেটিকস্ কমে যাবে ইনশাআল্লাহ।

২১ - উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে কালোজিরার তৈল ব্যবহার করতে পারেন। কালোজিরার তৈল মালিশে শ্বাসকষ্ট বা হাঁপানি দূর করে। এছাড়া কালোজিরার তেল হৃদরোগ নিয়ন্ত্রন করতে সাহায্য করে।

২২ - কৃমি- ভিনেগারে ভিজিয়ে কালোজিরা খেলে পেটের কৃমিকে নষ্ট করে দেয়।

২৩ - কালো জিরা নারী ও পুরুষে উভয়ের যৌন ক্ষমতা বাড়াতে বেশ উপকারি । বিশেষ করে পুরুষদের জন্য এটা আশ্চর্যজনক উপকারি। নিয়মিত কালোজিরা সেবনে স্ত্রীকে তৃপ্তি দেওয়া ও পুরুষত্ব হীনতা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।

২৪ - চুলকানিতে কালোজিরার উপকারিতা  - কালোজিরা ভাজা তেল গায়ে মাখলে চুলকানি কমে ও অনেক উপকারিতা পাওয়া যায়। ১০০ গ্রাম সরষের তেলে বিশ ত্রিশ গ্রাম অথবা পরিমান মত কালোজিরা ভেজে সে তেল ছেঁকে নিয়ে ব্যবহার করতে পারেন অথবা না ছেঁকেও ব্যবহার করতে পারেন।

২৫ - আপনার গ্যাস্ট্রিক এর সমস্যা তাহলে এক কাপ দুধ এর সাথে ১ চা চামচ কালো জিরা তেল একসঙ্গে মিশিয়ে প্রতিদিন পান করুন। পেটের গ্যাসের সমস্যা দূর হবে।