Header Ads

দৈনিক কী কী আমল করবেন, সময়কে কিভাবে ব্যবহার করবেন

দৈনিক কী কী আমল করবেন, সময়কে কিভাবে ব্যবহার করবেন

দৈনিক কী কী আমল করবেন, সময়কে কিভাবে ব্যবহার করবেন

আমাদের অনেক ভাই-বোন দৈনিক কী কী আমল করবেন, সময়কে কিভাবে ব্যবহার করবেন তা বুঝে উঠতে পারেন না। তাদের জন্য নিচে একটা গাইডলাইন দেয়ার চেষ্টা করা হলঃ

১. ঘুম থেকে উঠা। যারা নিয়মিত শেষ রাতে তাহাজ্জুদের নামাজ পড়তে উঠেন তারা নির্ধারিত সময়ে উঠবেন আর যারা সরাসরি ফজরের নামাজ পড়তে উঠেন তারা আযানের সাথে সাথে উঠে যাবেন।

২. ঘুম থেকে উঠে দুআ পড়া। এরপর ওযু করে ২ রাকাত তাহ্যিয়াতুল ওযুর নামাজ পড়া। তারপর ২ রাকাত সুন্নত পড়ে মসজিদে যাওয়া। মসজিদে জামাতের সাথে সালাত আদায় শেষে জায়গায় বসে সকালের জিকির গুলো আদায় করা। এরপর অর্থ সহ কুরআন তিলাওয়াত করা (অন্তত ১০ মিনিট)। এরপর ইশরাকের নামাজ পড়া (সূর্যোদয়ের ১৫-২০ মিনিট পর)। নামাজ শেষ করে বাসায় চলে আসা।

৩. কিছুক্ষণ ব্যায়াম করা। হোক সেটা কেবল ১০ মিনিট। নিয়মিত শরীরচর্চা আমাদের জন্য খুব দরকার। বিশেষ করে বর্তমান টেকনোলজি ও অটোমোবাইলের যুগে যখন আমরা কদাচিৎ শারীরিক পরিশ্রম করি। ভাইয়েরা High intensity interval training করতে পারেন। বোনেরা Skipping Rope করতে পারেন। দরজা, জানালা ভাল মত পর্দা দিয়ে ঢেকে দিতে ভুলবেন না!

৪. যদি সময় থাকে তো কিছু সময় দ্বীনি ইলম অর্জন করা। হতে পারে দুই-একটা হাদিস পড়া, ছোট কোন লেকচার, কোন বই থেকে ৪-৫ পৃষ্ঠা পড়া। এরপর আমরা যার যার দুনিয়াবি ফিকিরে ব্যস্ত হয়ে পড়ব। সকালের খাবার খেয়ে যাদের অফিস, ব্যবসা আছে তারা সেখানে যাওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিবেন। স্টুডেন্টরা স্কুল, কলেজ, ভার্সিটি চলে যাবেন। যারা বাসার কাজ করেন তারা তাদের কাজ শুরু করবেন।

৫. যোহর পর্যন্ত কাজের ফাঁকে ফাঁকে জিকির করা, বেশি বেশি ইস্তেগফার করা। নিজেকে যথাসম্ভব গুনাহ থেকে দূরে রাখতে হবে। নজরের হিফাজত করতে হবে। গিবত, অযথা হাসি-ঠাট্টা ও অন্যান্য গুনাহের কাজ যথাসম্ভব বাদ দিতে হবে।

৬. যোহরের আযান দেয়ার সাথে সাথে মসজিদে চলে যাওয়া (বোনেরা বাসায় বা সুবিধামত স্থানে যোহরের সময় হয়ে যাওয়ার সাথে সাথেই আদায় করে নিতে পারেন)। সম্ভব হলে যোহরের সুন্নত বাসায় পড়া। মসজিদে সুন্নত পড়ার পর হাত তুলে দুআ করা যেতে পারে। আযান ও ইকামাতের মধ্যবর্তী সময় দুআ কবুল হয়। তাই এই সময় বেশি বেশি দুআ করা উচিত। এছাড়া কুরআন পড়তে পারেন, জিকির করতে পারেন। নামাজ শেষ করে মাসনূন দুআগুলো পড়া। এরপর ২ রাকাত সুন্নত মসজিদে বা বাসায় আদায় করা।

৭. বাসায় এসে গোসল, দুপুরের খাবার খেয়ে কিছুক্ষণ ঘুমানো। কাইলুলা (দুপুরে হালকা ঘুম/Nap) সুন্নাহ্। এটা পরবর্তী সময় আপনাকে প্রাণবন্ত রাখবে।

৮. আসরের আযান হয়ে গেলে মসজিদে চলে যাওয়া। আসরের সুন্নত নামাজ আদায় করা। হাত তুলে দুআ করা, জিকির করা, কুরআন পড়া। জামাতে নামাজ শেষ করে জায়গায় বসে বিকালের জিকিরগুলো আদায় করা। কিছুক্ষণ অর্থসহ কুরআন পড়া। যাদের সুযোগ আছে তারা আসর থেকে মাগরীব পর্যন্ত মসজিদে থাকার চেষ্টা করবেন। যাদের আসরের পর কাজ থাকে তারা কাজে চলে যাবেন কিন্তু বিকালের জিকির করতে ভুলবেন না।

৯. মাগরীবের আযান দিলে মসজিদে মাগরীবের সালাত আদায় করা। মাগরীবের পরে সাধারণত সবাই বাসায় ফিরে আসে। অনেকের মাগরীবের পরও কাজ থাকে। নিজ নিজ পরিস্থিতি অনুযায়ী ম্যাচ করে নিবেন। যাদের পড়াশোনা আছে তারা পড়তে বসবেন, যাদের অন্যকাজ নেই তারা দ্বীনি ইলম অর্জন করবেন। বই পড়া, লেকচার শোনা, অনলাইন কোর্স। এই সময়টা ভালভাবে ব্যবহার করার চেষ্টা করুন। এটা পড়াশোনা করার জন্য উত্তম একটা সময়। বাসায় থাকলে কিছুক্ষণ বাসার সদস্যদের সাথে গল্প করার চেষ্টা করুন। সবসময় মোবাইল/ল্যাপটপ নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়বেন না। ভার্চুয়াল দুনিয়ায় অভ্যস্ত আমরা যেন প্রকৃত দুনিয়া ভুলে না যাই!

১০. এশার আযান হলে মসজিদে চলে যাওয়া। ২ রাকাত দুখুলুল মসজিদ আদায় করা (এটা অন্য সব ওয়াক্তেও আদায় করতে পারবেন)। অন্যান্য ওয়াক্তের মত হাত তুলে দুআ করা, জিকির করা বা কুরআন পড়া। নামাজ শেষ করে বাসায় চলে আসা। বাসায় পরিবারের সদস্যদের নিয়ে তা'লিম করা (কোন হাদিসের বই থেকে কিছু হাদিস পড়া যেমনঃ রিয়াদুস স্বলেহীন)।

১১. এরপর নিজের দ্বীনি পড়াশোনা, দুনিয়াবি পড়াশোনা বা ব্যক্তিগত অন্য কোন কাজ থাকলে তা করতে পারেন। অযথা সময় নষ্ট করবেন না। মনে রাখবেন আমাদের সময়ের পাই টু পাই হিসাব দিতে হবে!

১২. রাতের খাবার (যারা খান) খেয়ে নেয়া। খাওয়ার কিছুক্ষণ পর, ঘুমানোর আগে কয়েক রাকাত সালাত আদায় করা (অন্তত ২/৪ রাকাত ই হোক না কেন)। এ সময় তওবার নিয়ত করে ২ রাকাত নামাজ পড়বেন। সারাদিনের কৃত গুনাহ্ এবং অতীতের গুনাহের জন্য কেঁদে কেঁদে আল্লাহর কাছে মাফ চাইবেন। এরপর বিতিরের নামাজ পড়ে নিবেন। ১১টার মধ্যে শুয়ে পড়বেন। ঘুমানোর আগে ঘুমানোর জিকিরগুলো আদায় করবেন (সূরা মূলক, সূরা ইখলাস, ফালাক্ব, নাস, আয়াতুল কুরসী, সূরা বাকারার শেষ ২ আয়াত, তসবীহে ফাতেমি)। এরপর ঘুমানোর দুআ পড়ে ডান কাত হয়ে শুয়ে পড়বেন।

১৩. রাতের শেষ তৃতীয়াংশে তাহাজ্জুদের নামাজের জন্য উঠা। না পারলে একেবারে ফজরের সময় উঠবেন। তারপর আবার সবকিছু আগের মত।

সারাদিন চলতে ফিরতে সুন্নতের অনুসরণ করবেন। মানুষের উপকার করার চেষ্টা করবেন। দান-সদাকা করবেন। গুনাহ থেকে দূরে থাকার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করবেন। 

উল্লেখ্য এটা সাধারণ একটা গাইডলাইন। আমাদের অনেক মুত্তাকী ভাই-বোন এর চেয়ে অনেক বেশি আমল করেন। এটা আমাদের মত দূর্বল মুসলিমদের জন্য সহজ একটা রুটিন হিসেবে নেয়া যেতে পারে।

আল্লাহ্ তা'অালা আমাদের সবাইকে আমল করার এবং জান্নাতের দিকে দৌড়ানোর তৌফিক দিন।

সম্পর্কিত অনুসন্ধান:
দৈনিক কী কী আমল করব
সময়কে সঠিকভাবে ব্যবহার
প্রতিদিন কি কি আমল করব
সময়কে কিভাবে কাজে লাগাবো
সময়কে কিভাবে কাজে লাগানো যায়
প্রতিদিনের শিডিউল তৈরি ও ব্যবহার
২৪ ঘন্টাকে আপনি কিভাবে ব্যবহার করব