Header Ads

ধনেপাতার আশ্চর্যজনক গুনাগুন

শীতের আবির্ভাবের সাথে সাথে বাজারে ধনেপাতার সমাগম শুরু করেছে। মৌসুমের প্রারম্ভে দাম কিছুটা বাড়তি হলেও ক্রেতাদের কাছে এর অনেক কদর রয়েছে। অ্যান্টি–অক্সিডেন্টসমৃদ্ধ সবজি ও সালাদে স্বাদ বাড়াতে এর জুড়ি নাই। এতে অন্তত ১১ প্রকারের এসেনশিয়াল অয়েল বা তেল),ছয় ধরনের অ্যাসিড ছাড়াও প্রচুর ভিটামিন, খনিজ ও অন্যান্য উপকারী উপাদান রয়েছে। চলুন জেনে নিই ধনেপাতার এসব অজানা উপকারী গুনাগুন বিষয়ে বিস্তারিত।

ধনেপাতার পুষ্টিগুণ  


খনিজের অন্যতম উৎস ধনেপাতায় বিভিন্ন উপকারী উপাদান যেমন- পটাশিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, ক্যালসিয়াম আয়রন ও ম্যাংগানিজ ইত্যাদি রয়েছে। প্রতি ১০০ গ্রাম ধনেপাতায় রয়েছ ৮৬.৩ গ্রাম জলীয় অংশ। এছাড়া খনিজ পদার্থ ২.৩ গ্রাম,আশঁ ১.২ গ্রাম, খাদ্যশক্তি ৪৪ কিলোক্যালোরি, আমিষ ৩.৩ গ্রাম, চর্বি ০.৬ গ্রাম,  শকরা ৬.৩ গ্রাম, ক্যালসিয়াম ১৮৪ মিলিগ্রাম, আয়রণ ১৮.৫ মিলিগ্রাম, ভিটামিন  এ ৬৯১৮ মাইক্রোগ্রাম, ভিটামিন বি ১০.০৫ মিলিগ্রাম  ও ভিটামিন সি ১৩৫ মিলিগ্রাম ।

ধনেপাতার আশ্চর্যজনক কিছু গুনাগুন


১। রক্তস্বল্পতা প্রতিরোধ


আয়রনের অন্যতম উৎস হচ্ছে ধনেপাতা। এতে উচ্চ মাত্রায় আয়রন উপাদান থাকায় শরীরে রক্তস্বল্পতা হতে বাধা দেয়। এর ফলে শ্বাসকষ্ট, বুক ধড়ফড় করা,অত্যন্ত ক্লান্তি অনুভব ইত্যাদি কমাতে সাহায্য করে। তাছাড়া আমাদের শরীরের হাড় মজবুত ও সুস্থ রাখতে আয়রন সমৃদ্ধ ধনেপাতার বিকল্প নেই।

২। দৃষ্টিশক্তি উন্নত করা

ধনেপাতায় রয়েছে প্রচুর ভিটামিন এ যা আমাদের দৃষ্টিশক্তি উন্নত করতে সাহায্য করে। ভিটামিন এ চোখের রেটিনার সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত সহ রাতে্র অন্ধকারে ভালো দেখতে সাহায্য করে। এছাড়া এতে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট উপাদান থাকায় বয়সের সাথে সাথে চোখের দৃষ্টিশক্তি কমে আসার সমস্যা আংশিকভাবে রোধ করতেও এর অবদান রয়েছে।

৩। ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ

নিয়মিত ধনেপাতা খেলে তা শরীরের এন্ডোক্রাইন গ্রন্থিকে উদ্দীপিত করে এবং এতে অগ্ন্যাশয়ে ইনসুলিন নিঃসরণ বেড়ে যায়। এর ফলে আমাদের রক্তে শর্করার পর্যাপ্ত শোষণ নিশ্চিত হয়। এছাড়া ডায়াবেটিস আক্রান্ত রোগীরা যদি নিয়মিত ধনেপাতা খান তাহলে তাদের শরীরে শর্করার পরিমাণ হ্রাস পেয়ে বিপাক সঞ্চালন সঠিক থাকে যা ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে খুবই সহায়ক।

৪। শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি

ধনেপাতায় প্রচুর ভিটামিন এ এবং ভিটামিন সি রয়েছে যা আমাদের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে খুবই কাজ করে। আমাদের শ্বাসনালী সহ চোখ, নাক, মুখ, গলা্য় ভাইরাসের ইনফেকশন হতে বাধা দেয় ধনেপাতায় থাকা ভিটামিন এ। এছাড়া এতে থাকা ভিটামিন সি আমাদের রক্তে সাদা রক্ত কোষের কার্যকারিতা বাড়িয়ে দেয় যার ফলে শরীরে কোনো ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়াজনিত সমস্যা প্রতিরোধ স্বাভাবিকের চেয়ে আরও দ্রুত হয়। তাই চাইলেই আমরা সালাদে আধামুষ্টি পরিমাণ ধনেপাতা যোগ করতে পারি যা শুধু সালাদের স্বাদ বাড়ানোর পাশাপাশি একটু বেশি সুস্বাস্থ্যও নিশ্চিত করবে। 

৫। উচ্চ রক্তচাপ হ্রাস

ধনেপাতায় উচ্চ মাত্রায় কোলিনার্জিক যৌগ এবং ক্যালসিয়াম অ্যান্টাগোনিস্টস থাকায় তা উচ্চ রক্তচাপ হ্রাস ও নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। তাছাড়া এই পাতায় শক্তিশালী তেজস্ক্রিয়তা রয়েছে, যা খুব স্বাভাবিক উপায়ে উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে আনে।

৬। রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ

রক্তে অতিরিক্ত কোলেস্টেরল হার্টের অসুখ যেমন স্ট্রোক এবং ডায়াবেটিসের মতো ক্রনিক রোগ সৃষ্টিতে অনেক দায়ী। ধনেপাতায় সোডিয়াম ও পটাশিয়াম থাকায় এটি রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা কমাতে সক্ষম। এছাড়া ধনেপাতায় বিভিন্ন অ্যাসিড, যেমন- লিনোল্যাট অ্যাসিড, ওলিঅ্যাট অ্যাসিড, পমিট্যাট অ্যাসিড ও স্টিয়ার্যাট এসিড রয়েছে যা রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকের মতো প্রাণনাশক সমস্যাগুলোর জন্য দায়ী খারাপ কোলেস্টেরলও নিয়ন্ত্রণ করে এসব উপাদান।

৭। হজমে সহায়তা

ধনেপাতার আরও একটি বড় উপকারিতা হচ্ছে এটি খেলে শরীরে অনেক বেশিমাত্রায় হজমে সাহায্যকারী এনজাইম উৎপন্ন হয় ফলে খাবার দ্রুত হজম হয়। শুধু তাই নয় বমিভাব এবং বদহজম দূর করতেও এর জুড়ি নেই। এছাড়া এর দারুণ সুগন্ধ খাবারের রুচিও বৃদ্ধিতে ভুমিকা রাখে।

৮। ক্যান্সার প্রতিরোধ

ধনেপাতায় রয়েছে অ্যান্টি-ক্যান্সার উপাদান যা শরীরের  সবচেয়ে বড় স্বাস্থ্য উপকার সাধন করে। এতে থাকা  অ্যান্টি-অক্সিডেন্টমূহের মধ্যে রয়েছে বিটা ক্যারোটিন, ভিটামিন ই, ক্যাফিক অ্যাসিড, ফেরুলিক, কুয়ারসেটিন ও ক্যাম্পারফোল্ড উপাদান যেগুলো ক্যান্সার নির্মূলের জন্য অত্যন্ত কার্যকরী।

প্রচুর পরিমাণে রাসায়নিক উপাদান থাকায় স্বাভাবিক পরিমাণে ধনেপাতা খেলে তা শরীরের জন্য যেমন উপকার বয়ে আনে তেমন অতিরিক্ত ধনেপাতা খেলে তা যকৃতের সমস্যা সহ  ডায়রিয়া কিংবা অ্যালার্জির সমস্যা হতে পারে। এছাড়া অনেকের ক্ষেত্রে আবার সূর্যরশ্মির সংবেদনশীলতা দেখা দিতে পারে। তাই অবশ্যই পরিমাণমতো ধনেপাতা খাওয়া উচিত।