Header Ads

সার্ভাইক্যাল স্পনডাইলোসিস বা ঘাড়ের ব্যথা হলে সমাধান কি?

সার্ভাইক্যাল স্পনডাইলোসিস ঘাড়ের বাত নামেও পরিচিত। এই রোগ হলে সর্বদা ঘাড়ের পেছনে অস্বস্তিকর ব্যথা অনুভূত হয়। ব্যথা তীব্র হলে তা কাঁধ, হাতের কনুই, এমনকি আঙ্গুল পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়তে পারে। তাই এ রোগ হলে যত দ্রুত সম্ভব যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

সার্ভাইক্যাল স্পনডাইলোসিস কী?

সার্ভাইক্যাল স্পনডাইলোসিস সাধারণভাবে ঘাড়ের বাত নামেও পরিচিত। মেরুদণ্ডের ঘাড়ের অংশের কশেরুকাগুলোর মধ্যকার ডিস্ক বা চাকতিসদৃশ তরুণাস্থির ক্ষয়প্রাপ্তির ফলে সাধারণত এই সমস্যা হয়ে থাকে। ওপরের তিনটি কশেরুকাতে খুব একটা চাপ না পড়ায় এই অংশে স্পনডাইলোসিস খুব কম হয়। তবে ঘাড়ের নিচের চতুর্থ থেকে সপ্তম কশেরুকাতে এই সমস্যা বেশী ঘটে। এই ব্যথা সর্বদা ঘাড়ের পেছন দিকে অনুভূত হয় এবং কখনোই ঘাড়ের সামনের দিকে অনুভূত হয়না। ব্যথা তীব্র হলে তা কাঁধ, হাতের কনুই, কখনো তা আঙুল পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়তে পারে।

সার্ভাইক্যাল স্পনডাইলোসিসের উপসর্গ সমূহ:

  • ঘাড়ের ব্যথা হওয়া।
  • ঘাড় ঘুরাতে অসুবিধা হওয়া এবং নাড়ালেই ব্যথা বৃদ্ধি পাওয়া।
  • ঘাড়ের মাংসপেশি কামড়াচ্ছে এমন অনুভব হওয়া।
  • ঘাড়ের ব্যথার পাশাপাশি হাতের আঙুল ঝিনঝিন করা।
  • ঘাড়ে ব্যথার সঙ্গে সঙ্গে হাত বা হাতের আঙুলে অবশভাব অনুভব হওয়া।
  • ঘাড়ের ব্যথা মাঝে মাঝে শরীরের অন্য অংশে যেমন কাঁধ, হাত অথবা মাথার পেছনের দিকে ছড়িয়ে যেতে পারে।

সার্ভাইক্যাল স্পনডাইলোসিস বা ঘাড়ে তীব্র ব্যথা হলে করণীয়:

সার্ভাইক্যাল স্পনডাইলোসিসের কারণে ঘাড়ে তীব্র ব্যথায় সাধারণত নিচের পদক্ষেপসমূহ গ্রহণ করা যেতে পারে-

১। ঘাড় নড়াচড়া করে এমন কাজ বন্ধ রাখাঃ

যেসব কাজে ঘাড় নড়াচড়া করতে হয় অবিলম্বে সেগুলো বন্ধ করে দিতে হবে। ঘাড়ে ঝাঁকি লেগে ব্যথা বেড়ে যেতে পারে তাই এ সময় কোন প্রকার ভ্রমণ করা যাবেনা। প্রয়োজনে এসময় অফিস থেকে কিছু দিনের জন্য ছুটি নিতে হবে।

২। সার্ভাইক্যাল কলার ব্যবহারঃ

অসাবধনতাবশত ঘাড়ের নড়াচড়া থেকে বাঁচতে সার্ভাইক্যাল কলার ব্যবহার করা যেতে পারে। প্রথম কয়েকদিন ঘুমের সময়ও এটি পরে থাকা ভালো। ফলে ঘুমের মধ্যে অজ্ঞতাবশত ঘাড়ের নড়াচড়া প্রতিহত হবে।

৩। ঘুমানোর সময় চিৎ হয়ে শোয়াঃ

ঘুমানোর সময় শক্ত সমান বিছানায় চিৎ হয়ে কিংবা স্বাভাবিক অবস্থানের চেয়ে ১০-১৫ ডিগ্রি সামনের দিকে বাঁকিয়ে ঘুমানো উচিত। ছোট নরম একটা বালিশ রোল করে ঘাড়ে সাপোর্ট হিসাবে দেয়া যেতে পারে।

৪। ঘাড়ে গরম সেক দেওয়া:

তাপ মাংসপেশিকে শিথিল করতে সবচেয়ে উপযোগী পদ্ধতি। তাই এ অবস্থায় ঘাড়ের পেশিতে গরম সেক দেওয়া দরকার। এজন্য হট ওয়াটার ব্যাগ, ইলেকট্রিক্যাল হিটিং প্যাড ইত্যাদি ব্যবহার করা যেতে পারে।

৫। মালিশ বা ম্যাসাজ করা:

মালিশ ঘাড়ের টানটান পেশিগুলোকে শিথিল করতে একটি কার্যকর ব্যবস্থা। মাংসপেশিকে জোরে মুচড়ে দেয়া যাবে না। ম্যাসাজ বা মালিশের সময় যেন উল্টাপাল্টা করা না হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। দুই কাঁধে এবং ঘাড়ের মালিশ আস্তে আস্তে করতে হবে।

৬। মাঝে মাঝে ঘাড়ের ব্যায়াম করাঃ

ঘাড়ের মাংসপেশি দুর্বল হয়ে পড়লে মেরুদণ্ড ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তাই রোগীরা শক্ত ঘাড়, পিঠের উপরের অংশ ও কাঁধের শক্ত পেশি সিথিল করতে কিছু ব্যায়াম করতে পারেন। যেমনঃ

  • মাথাটাকে বামে ও ডানে ঘুরান।
  • মাথাটাকে সামনের দিকে আনুন, এরপর পেছনের দিকে নিন।
  • মাথাটাকে ঘড়ির কাঁটার দিকে এবং ঘড়ির কাঁটার বিপরীতে ঘুরান।
  • কাঁধ দুটো ওপরের দিকে তুলুন ও নামান, তারপর কাঁধ দুটোকে ঘুরান।
  • হাত দুটিকে নিজের দুই কাঁধের ওপর স্থাপন করে কনুই দুটো বৃত্তাকারে ঘুরান।

৭। ব্যথানাশক ওষুধ গ্রহণঃ

ব্যথা থেকে তাৎক্ষণিক মুক্তির জন্য ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী ব্যথানাশক ওষুধ প্রয়োগ করা যেতে পারে। কখনো কখনো ব্যথা নিবারণের জন্য ইনজেকশন নেয়ার প্রয়োজন হতে পারে।

বয়স বাড়ার সাথে সাথে মেরুদণ্ড ও ঘাড়ের হাড় ও কার্টিলেজে কিছু পরিবর্তন ঘটতে থাকে। যার কারণে সার্ভাইক্যাল স্পনডাইলোসিস বা ঘাড়ে বাতের সমস্যা হয়। এই ব্যথা পরোপুরি রোধ করতে না পারলেও চিকিৎসা করে উপসর্গসমূহ কমিয়ে কষ্ট লাঘব করা সম্ভব। তাই সঠিক সময়ে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।