Header Ads

একটানা সারাদিন বসে কাজ করার যত স্বাস্থ্যঝুঁকি

সভ্যতার উন্নতির কারণে শারীরিক পরিশ্রমের পরিমাণ অনেক কমে গেছে। অফিস বা বাসা, স্কুল-কলেজে প্রায় সময় আমরা বসেই থাকি। ফলে প্রতিনিয়ত বিভিন্ন অসুখ বিসুখের পরিমাণ বেড়েই চলেছে। চলুন সারাদিন বসে বসে কাজ করার ক্ষতিকর দিক ও বাঁচার উপায়সমুহ জেনে নিই।

সারাদিন বসে বসে কাজ করার অপকারিতা সমূহ

কাঁধ ও পিঠে ব্যথা হওয়া:

যাঁরা অলসভাবে সারাদিন বসে থাকেন কিংবা সারাদিন বসে বসে কাজ করেন তাদের নিতম্বের চর্বি কোষগুলো ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যায়।[১] একটানা কয়েক মিনিটের বেশি সোজা হয়ে বসে থাকলে শিঁড়দাড়ার লিগামেন্টের অনেক ক্ষতি হয়। এর ফলে পিঠের মাংশপেশিতেও বেশ চাপ পড়ে। তাই কম্পিউটারে যাঁরা অনেকক্ষণ একটানা কাজ করেন তাঁদের পিঠ, ঘাড় ও কাঁধের সমস্যা দেখা দিতে পারে।

কোমর ও পা ব্যথা হওয়া:

একটানা অনেকক্ষণ বসে থাকলে কোমরের নীচের ও পায়ের মাংশপেশি ধীরে ধীরে ক্ষয় হতে থাকে। এর ফলে, কোমরের নানা সমস্যার পাশাপাশি পায়ে রক্ত চলাচলে বিঘ্ন ঘটতে পারে। ফলে পায়ের গোড়ালি ফুলে প্রচণ্ড ব্যথা হতে পারে।

পরিপাক ক্রিয়া ব্যহত হওয়া:

একটানা বসে কাজ করলে পেট সংকুচিত হতে থাকে। এর ফলে খাবার হজমে ব্যাঘাত ঘটে। এর ফলে পেটে গ্যাস ও বদহজম হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়। এমনকী কনস্টিপেশন বা কোষ্ঠ কাঠিন্য জাতীয় সমস্যাও হতে পারে।

হৃদরোগের ঝুঁকি বেড়ে যাওয়া:

দাঁড়ানো অবস্থায় হার্ট সবচেয়ে ভাল কাজ করে। বর্তমান সময়ে হার্টের রোগীর সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলছে যার অন্যতম কারণ হচ্ছে সারাক্ষণ বসে কাজ করা। একটি গবেষণা হতে দেখা গেছে, যারা প্রতিদিন একটানা ৩ ঘন্টার বেশি বসে বসে টেলিভিশন দেখে তাদের হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর ঝুঁকি প্রায় ৬৪% বেশী। ব্যায়াম করলেও তারা শরীরের শরীরের চর্বি কমাতে পারেন না। [২] অনেকক্ষণ বসে থাকলে শরীরের অতি প্রয়োজনীয় এনজাইম “লিপোপ্রোটিন লিপেস” অকেজো হয়ে পড়ে। এর ফলে, হার্টে ব্লকেজ হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়।

ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বেড়ে যাওয়া:

দিনের বেলায় বেশির ভাগ সময় বসে থাকলে দেহে ইনসুলিন নামক হরমোন নিঃসরণ কমে যায়। ইনসুলিন আমাদের শরীরের প্রয়োজনীয় খাদ্য উপাদান গ্লুকোজ ভাঙতে সাহায্য করে । কিন্তু শরীরে যদি ইনসুলিন স্বাভাবিক হারে তৈরি হতে না পারলে ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেড়ে যায়।

ফুসফুস ও মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতা নষ্ট হওয়া:

সারাদিন প্রায় একই ভঙ্গিমায় বসে থাকলে ফুসফুসে কম মাত্রায় অক্সিজেন ঢোকে। এর ফলে ফুসফুসের আয়তন ধীরে ধীরে সংকুচিত হতে থাকে এবং এর স্বাভাবিক কার্যকারিতা ব্যঘাত ঘটে। ফুসফুসে কম অক্সিজেন ঢুকলে মস্তিষ্কেও এর প্রভাব পড়ে। অর্থাৎ ফুসফুসে অক্সিজেন সরবরাহ কম হলে ব্রেনেও এর সাপ্লাই কম হয়। যার ফলে ব্রেনের কর্মক্ষমতা হ্রাস পেতে পারে এবং তার প্রভাব সমগ্র শরীর জুড়ে পড়তে পারে।

স্বাস্থ্য ঝুঁকি থেকে বাঁচার উপায়:


  • ফোনে কথা বলার সময়ে বসা থেকে চেয়ার ছেড়ে দাঁড়িয়ে কথা বলুন।
  • প্রতি ৩০ মিনিট পরপর নিজের জায়গাতেই কিছুক্ষণের জন্য দাঁড়িয়ে থাকুন ও হাঁটাহাঁটি করুন।
  • মিটিং এ থাকলে চেষ্টা করুন তা দাঁড়িয়ে করা যায় কিনা। সুযোগ থাকলে মিটিং এর মধ্যে একটু হাঁটাহাঁটি করতে পারেন।
  • বসার সময় যথাসম্ভব সোজা হয়ে বসার চেষ্টা করুন।
  • প্রতিনিয়ত ৮ ঘণ্টা বসে থাকার পর ৩০ মিনিট ব্যায়াম করলেও খুব একটা উপকার হয় না। তাই সময় পেলেই চেয়ার থেকে উঠে হালকা স্ট্রেচিং ব্যায়াম করুন বা একটু হেঁটে আসুন।
  • সামনের দিকে ঝুঁকে না বসে হেলান দিয়ে বসুন। তাতে মেরুদণ্ডের উপর চাপ কম পড়বে এবং কোমর এবং ঘাড়ে ব্যথা হওয়ার সম্ভাবনাও কমে যাবে।

একটানা বসে থেকে আমরা নিজেরাই নিজেদের মারাত্মক ক্ষতি করছি। তাৎক্ষণিকভাবে এই ক্ষতি প্রকাশ না পেলেও পরবর্তীতে নানা শারীরিক সমস্যা স্থায়ীভাবে শরীরে বাসা বাঁধতে পারে। তাই দীর্ঘ সময় বসে থাকার ক্ষতিকর দিকগুলো জেনে আজই সাবধান হওয়া উচিত।

সম্পর্কিত অনুসন্ধান:
একটানা বসে কাজ করলে যত বিপদ
টানা চেয়ারে বসে কাজ করলে কি বিপদ
সারাদিন বসে কাজ করার যত স্বাস্থ্যঝুঁকি
দীর্ঘক্ষণ বসে কাজ করলে কি সমস্যা হয়
দীর্ঘ সময় বসে থাকলে কি কোন সমস্যা হয়
সারাদিন বসে বসে কাজ করায় কী ক্ষতি হচ্ছে
টানা বসে কাজ করার ফলে কি কি শারীরিক সমস্যা হয়?