Header Ads

লটকন: পুষ্টি ও স্বাস্থ্য গুণাগুণ

লটকন: পুষ্টি ও স্বাস্থ্য গুণাগুণ, বুবি, নটকোনা, কানাইজু, ছড়াক্কা, ডুবি, লটকা, লটকাউ, কিছুয়ান, baccaurea ramiflora health benefits

লটকন বা নটকোনা বৈজ্ঞানিক নাম- বাসকাউৰীয়া মোটলিয়ানা (English: Baccaurea motleyana) এক প্রকার টক মিষ্টি ফল। লটকন ইংরেজিতে নানা নামে পরিচিত, যেমন- Baccaurea ramiflora, Burmese Grape, Rambai, Rambi, Mafai-farang, Lamkhae, Ra mai ইত্যাদি। গাছটি দক্ষিণ এশিয়ায় বুনো গাছ হিসেবে জন্মালেও বাংলাদেশ, মালয়েশিয়া ও থাইল্যান্ডে এর বানিজ্যিক ভাবে চাষ হয়।

এখন লটকনের মৌসুম তাই বাজারে পাওয়া যাচ্ছে স্বাস্থ্যের জন্য উপকারি ফলটি। এটি আমাদের দেশের একটি অপ্রচলিত ও খাদ্যমানে সমৃদ্ধ ফল। অঞ্চলভিত্তিক এর বেশ কিছু স্থানীয় নাম আছে যেমন চট্টগ্রামে এর নাম হাড়ফাটা, সিলেটবাসী চেনেন বুবি বা ভুবি নামে এবং ময়মনসিংহে বলে কানাইজু এছাড়া বাংলাদেশের ভিবিন্ন অঞ্চলে লটকনকে আরো বেশ কয়েকটি নাম ডাকা হয়; যেমন- ছড়াক্কা, ডুবি, লটকা, লটকাউ, কিছুয়ান ইত্যাদি। এ ফলটি খেতে যেমন সুস্বাদু তেমনি এর চাষও লাভজনক। লটকন গাছ রোপণের তিন-চার বছর পর থেকেই গাছে ফল ধরতে শুরু করে।  লটকন ফলের  আরেকটি একটি অন্যতম বৈশিষ্ট্য হচ্ছে  ফলটি গাছের গোড়া থেকে আগা পর্যন্ত এমনভাবে ফল ধরে যে, তাতে গাছের কান্ড বা ডাল অনেক সময় দেখা যায় না। এছাড়া এটি চাষ করতে তেমন বাড়তি কোনো জায়গার প্রয়োজনও হয় না। বাড়ির আঙিনায় বা বড় বড় গাছের নিচে অধিক ছায়াযুক্ত জায়গায় খুব সহজেই লটকনের আবাদ করা যায়। তাই অল্প পরিশ্রমে ও খরচে অতি পুষ্টি ও খাদ্যমানে সমৃদ্ধ ফলটি খেতে পারি। চলুন খাদ্যমানে সমৃদ্ধ ও খেতে সুস্বাদু ফলটির উপকারী দিক সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নিই।

লটকনের পুষ্টিগুণ:

আমাদের দেশি মৌসুমি ফলগুলোর প্রতিটিই স্বাদে যেমন বিচিত্র, তেমনি পুষ্টিমানেও অনন্য।  পাকা লটকন খাদ্যমানের দিক দিয়ে খুবই সমৃদ্ধ। এতে ভিটামিন ও খাদ্যশক্তিসহ নানারকম খনিজ উপাদান রয়েছে। লটকনের পুষ্টিমানও প্রচুর। লটকনে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন বি-১ ও অন্যান্য ধরনের ভিটামিন ‘বি' আছে। এতে ভিটামিন বি-১ ও ভিটামিন বি-২ আছে যথাক্রমে ১০ দশমিক ০৪ মিলিগ্রাম এবং ০.২০ মিলিগ্রাম। খাদ্যশক্তির ভালো উৎস লটকন।  দেহ সক্রিয় রাখতে ও দৈনন্দিন কাজ করতে খাদ্যশক্তি প্রয়োজন হয়। প্রতি ১০০ গ্রাম লটকনের কোয়ায় খাদ্যশক্তি থাকে প্রায় ৯২ কিলোক্যালরি যা আমাদের জাতীয় ফল কাঁঠালের প্রায় দ্বিগুণ। লটকনে ভিটামিন সি' আছে প্রচুর। মৌসুমের সময় প্রতিদিন দুই-তিনটি লটকন খাওয়া মানেই আমাদের দৈনন্দিন ভিটামিন সি'র চাহিদা পূরণ হওয়া। লটকনে কিছু পরিমাণে প্রোটিন ও ফ্যাট পাওয়া যায় যার পরিমাণ  প্রতি ১০০ গ্রামে যথাক্রমে  ১.৪২ গ্রাম ও ০.৪৫ গ্রাম। এছাড়া ফলটিতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে চর্বি, আমিষ, লৌহ এবং খনিজ পদার্থ। এইসব উপাদান শরীরকে সুস্থ রাখতে বিশেষ ভুমিকা রাখে।

লটকনের বিভিন্ন ওষধি গুনাগুণ:

লটকনের পুষ্টিগুণের পাশাপাশি ভেষজগুণও রয়েছে। লটকনে রয়েছে অ্যামাইনো অ্যাসিড ও এনজাইম যা দেহ গঠন ও কোষকলার সুস্থতায় কাজে লাগে। এইসব উপাদান রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। এছাড়াও এতে রয়েছে নানা রকম পুষ্টি উপাদান যা শরীরকে সুস্থ রাখে ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে।  নিম্নে লটকনের বিভিন্ন ওষধি গুনাগুণ সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো।

১। ফলটি খেলে আর্থ্রাইটিস রোগে উপকার পাওয়া যায় ।

২। ফোঁড়া এবং অন্যান্য ত্বকের রোগ সারাতে লটকন ফল অনেক উপকারী।

৩। পাকস্থলীর ব্যথা, কলিক ও পাকস্থলীর আলসার সারাতে লটকন ফলের ব্যবহার হয়ে থাকে।

৪। লটকন ফল খেলে ব্রণ ও ত্বকের দাগ কমে যায় ।

৫। গরমে তেষ্টা মেটানো এবং বমি বমি ভাব দূর করতে লটকন ফল কার্যকর ভূমিকা পালন করে।

৬। লটকনে প্রচুর ফাইবারও থাকে যা হজমশক্তি বাড়াতে সাহায্য করে। এছাড়া ফলটি খাওয়ার রুচি বাড়ায়।

৭। মানসিক অবসাদ কমিয়ে আনতে ফলটি সহায়তা করে।

৮। লটকন গাছের পাতা শুকিয়ে গুঁড়া করে খেলে ডায়রিয়া থেকে উপশম পাওয়া যায়।

৯। লটকন গাছের ডাল এবং বাকল চর্মরোগ সারাতে ব্যবহার হয়।

১০। গনোরিয়া রোগ হলে লটকনের বীজ খেলে উপকার পাওয়া যায়।


নানান ফলের ভিড়ে লটকনের গুণের কথা আজও অনেকের অজানা। এটি একটি পুষ্টিকর ফল যাতেরয়েছে ভিটামিন ও খাদ্যশক্তিসহ নানারকম খনিজ উপাদান । আগে ফল হিসাবে খুব একটা গুরুত্ব ছিলো না লটকনের। কিন্তু বর্তমানে কদর বেড়েছে। তাই ফলটির মাধ্যমে অতি সহজেই দৈনন্দিন চাহিদার অনেক পুষ্টিগুণ পাওয়া সম্ভব। তবে এ ফল বেশি মাত্রায় খাওয়া উচিত নয়, তাতে ক্ষুধামন্দা দেখা দিতে পারে।

সম্পর্কিত অনুসন্ধান:
লটকন খেলে কি হয়?
লটকন চাষ পদ্ধতি
লটকনের উপকারিতা
লটকন এর ঔষধি গুণাগুণ