Header Ads

কুরআন ও হাদিসের আলোকে শবে বরাত

শবে বরাত  লাইলাতুল বারআত‎ বা মধ্য-শা'বান, হচ্ছে হিজরী শা'বান মাসের ১৪ ও ১৫ তারিখের মধ্যে পালিত একটি পূণ্যময় রাত। এই রাতকে লাইলাতুল বরাত বলা হয়। বিশ্বের বিভিন্ন স্থানের  ধর্মপ্রাণ মুসলমাগণ ইবাদাতের মধ্য দিয়ে এই রাত পালন করেন।
কুরআন ও হাদিসের আলোকে শবে বরাত
তবে শবে বরাত নিয়ে আমাদের সমাজের কিছুটা আলেমদের মাঝে মতভেদ আছে। কেউ কেউ বলে থাকেন সহীহ হাদিস দ্বারা শবে বরাত প্রমাণিত না। তারা এ রাতকে অন্য রাতের মতই মনে করেন।
তবে হাদিসে এ রাতের মহিমা ও ফজিলত বিশেষভাবে উল্লেখ আছে। এ হাদিসগুলো সহীহ হাদিস। সম্মিলিত কোন রূপ না দিয়ে এবং এই রাত উদযাপনের বিশেষ কোনো পন্থা উদ্ভাবন না করে বেশি ইবাদত করা নির্ভরযোগ্য বর্ণনা দ্বারা প্রমাণিত। এই রাতকে অন্য সাধারণ রাতের মতো মনে করা এবং এ রাতের ফজিলতের ব্যাপারে যত হাদিস এসেছে তার সবগুলোকে মওযূ বা যয়ীফ মনে করা ভুল।

তবে এ রাতকে শবে কদরের মতো বা তার চেয়েও বেশি ফজিলতপূর্ণ রাত মনে করাও একটি ভিত্তিহীন ধারণা।

এখানে শবে বরাত তথা চৌদ্দ - পনের শাবানের রাত সর্ম্পকে একটি হাদিস সনদের নির্ভরযোগ্যতার বিবরণসহ তুলে ধরা হল।

হযরত মুআয ইবনে জাবাল(রাঃ) বলেন, নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, আল্লাহ তাআল অর্ধ-শাবানের রাতে (শাবানের চৌদ্দ তারিখ দিবাগত রাতে) সৃষ্টির দিকে (রহমতের) দৃষ্টি দেন এবং মুশরিক ও বিদ্বেষ পোষণকারী ব্যতীত সবাইকে ক্ষমা করে দেন।

এই হাদিস দ্বারা প্রমাণ হয় যে, এই রাতে আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে রহমত ও মাগফেরাতের দ্বার ব্যাপকভাবে উন্মুক্ত হয়। কিন্তু শিরকী কাজকর্মে লিপ্ত ব্যক্তি এবং অন্যের ব্যাপারে হিংসা-বিদ্বেষ পোষণকারী মানুষ এই ব্যাপক রহমত ও সাধারণ ক্ষমা থেকেও বঞ্চিত থাকেন।

এখন আসুন, উল্লেখিত হাদিসটির সনদ নিয়ে আলোচনা করি। উপরোক্ত হাদিসটি অনেক নির্ভরযোগ্য সনদের মাধ্যমে বর্ণিত হয়েছে। ইমাম মুহাম্মাদ ইবনে হিব্বান তার ‘কিতাবুস সহীহ’ এ (যা সহীহ ইবনে হিব্বান নামেই প্রসিদ্ধ, ১৩/৪৮২এ) এই হাদিসটি উদ্ধৃত করেছেন। এটি এই কিতাবের ৫৬৬৪ নম্বর হাদিস। এ ছাড়া ইমাম বায়হাকী(রহঃ) ‘শুআবুল ঈমান’ এ(৩/৩৮২, হাদিস ৩৮৩৩) ইমাম তাবরানী আলমুজামুল কাবীর ও আলমুজামুল আওসাতে এ বর্ণনা করেছেন।

এছাড়াও আরও বহু হাদিসের ইমামগণ তাদের নিজ নিজ কিতাবে হাদিসটি উল্লেখ করেছেন। হাদিসটির সনদ সহীহ। এজন্যই ইমাম ইবনে হিব্বান একে ‘কিতাবুস সহীহ’ এ বর্ণনা করেছেন।

এমনকি শায়খ নাসিরুদ্দীন আলবানী(রহঃ) সিলসিলাতুল আহাদীসিস সাহীহা ৩/১৩৫-১৩৯ এ এই হাদিসের সমর্থনে আরও আটটি হাদিস উল্লেখ করার পর লেখেন, ‘এসব বর্ণনার মাধ্যমে সমষ্টিগতভাবে এই হাদিসটি নিঃসন্দেহ সহী প্রমাণিত হয়’।

এরপর শায়খ আলবানী (রহঃ) ওই সব লোকের বক্তব্য খণ্ডন করেন, যারা কোনো ধরনের খোঁজখবর ছাড়াই বলে দেন যে, শবে বরাতের ব্যাপারে কোনো সহীহ হাদিস নেই।

শবে বরাতের পরদিন রোজা রাখা সর্ম্পকে একটি হাদিস রয়েছে- হযরত আলী ইবনে আবু তালেব(রাঃ) থেকে বর্ণিত নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, পনের শাবানের রাত যখন আসে, তখন তোমরা এ রাতটি ইবাদত বন্দেগীতে কাটাবে এবং দিনের বেলা রোজা রাখ। কেননা এ রাতে সূর্যাস্তের পর আল্লাহ তাআলা প্রথম আসমানে আসেন এবং বলেন, কোনো ক্ষমা প্রার্থনাকারী আছে কি? আমি তাকে ক্ষমা করব। আছে কি? কোন রিজিক প্রার্থী? আমি তাকে রিজিক দেব। এভাবে সুবহে সাদিক পর্যন্ত আল্লাহ তাআলা মানুষের প্রয়োজনের কথা বলে তাদের ডাকতে থাকেন।(ইবনে মাজা, হাদিস নম্বর-১৩৮৪)
আমাদের সমাজে কিছু কিছুলোক আছেন যারা বুখারী ও মুসলিমের হাদিস ছাড়া মানতে চান না। আবার কেউ কেউ আছেন সিয়াসিত্বার হাদিস ছাড়া মানতে চান না। তাদেরকে বলছি- এই কিতাবের বাহিরেও বহু হাদিসের কিতাব আছে। সেগুলোও দেখবেতে হবে। আল্লাহ তাআলা আমাদের সকলকে সঠিক বুঝ দান করুন। (আমিন)